অভিশপ্ত কাপ্তাই বাঁধ, ভূলে যাওয়া রক্ত স্রোতঃ অরুনাচলের চাকমা জনগোষ্ঠী

পটভূমিঃ

১৮৮১ সালে যে ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাকমা রাজ্যকে ভেঙে ৩টি অংশে বিভক্ত করেছিল। পরে তারাই আবার পার্বত্য চট্টগ্রামকে বহিরাগত অভিবাসনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯০০ সালে হিলট্রেক্ট ম্যানুয়েল প্রনয়ন করেছিল। কিন্ত উইকিপিডিয়া এই তথ্যটিও দিচ্ছে যে, চাকমা জাতির মেরুদন্ড ভাঙার শেষ ধাপটির পরিকল্পনাও তাদের সময় শুরু হয়েছিল [ কাপ্তাই বাঁধ ]। যদিও সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নটি করে পাকিস্তান সরকার।

উইকি জানাচ্ছে যে ১৯০৬ সালেই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রথম পরিকল্পনাটি করা হয়েছিল! এরপর ১৯২৩ সালে ২য় বারের মত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ সমপন্ন করা হয়। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে ১৯৪৬ সালে ই.এ. মোর বর্তমান জায়গা থেকে ৬৫ কিলোমিটার উজানে বরকলে বাঁধটি স্থাপনের জন্য প্রস্তাব করেন। এরপর ১৯৫০ সালে, মার্জ রেনডাল ভ্যাটেন কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স কাপ্তাইয়ের ৪৫ কিলোমিটার উজানে চিলারডকে বাঁধ স্থাপনের জন্য অপর একটি জায়গা প্রস্তাব করে। ১৯৫১ সালে কাপ্তাইয়ের চিতমরং স্থানে বাঁধ স্থাপনের জন্য ৩য় বারের মত প্রস্তাব করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ১৯৫১ সালেই প্রধান প্রকৌশলী খাজা আজিমউদ্দীনের তত্তাবধানে বাঁধ নির্মাণের জন্য বর্তমান স্থানকেই নির্বাচন করা হয়। এরপর ইউটা ইন্টারন্যাশনাল ইনক নামক নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্টান ১৯৫৭ সাল থেকে বাঁধ নির্মাণ শুরু করে এবং ১৯৬২ সাল নাগাদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে।

দুঃস্বপ্নের শুরুঃ
১৯৪৭ সালে রেডক্লিফ রেখা বিভাজনের সাথে সাথে চাকমা জাতি ত্রিধা বিভক্ত হওয়ার পর বৃহত্তর অংশটি নিজ পিতৃভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামেই থেকে যায়। কিন্তু যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে থেকে যায় তাদের উপর পাকিস্তান শাসনের শুরু থেকেই বিমাতা সুলভ আচরণ শুরু হয়।

১। ১৯৪৮ সালেই স্থানীয় ভূমিপুত্র আদিবাসীদের দ্বারা গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের পুলিশ বাহিনী নিষিদ্ধ করা হয়।
২। ১৯৫৫ সালে মুসলিম লীগের নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ মর্যাদা হরণ করে নিয়মিত জেলায় পরিণত করার চেষ্টা চালায় কিন্তু তা শেষ ব্রিটিশ ডেপুটি কমিশনার নিবলেট এবং চাকমা রাজার বিরোধিতার কারনে সম্ভব হয়নি।
৩। বিরোধিতার কারনে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সংবিধানে পার্বত্য চট্টগ্রামের মর্যাদা স্বীকার করে নিলেও সংবিধানের ৫১(I) ধারা প্রনয়ন করে সর্বপ্রথম চাকমা সহ অন্যান্য অ-মুসলিম জাতিগোষ্ঠিদের ২য় শ্রেনীর নাগরিকে পরিণত করে! ( কারণ পাকিস্তানের সংবিধানের ৫১ ধারা অনুসারে কেবল মাত্র কোন মুসলিমই রাষ্ট্রের প্রধান পদে থাকতে পারবে। )
৪। পাকিস্তান সামরিক কর্তৃত্ব গ্রহনের পর ১৯৫৮ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের “উন্মুক্ত করণ” ত্বরান্বিত হয়।
৫। ১৯৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল আদিবাসী কর্মচারীকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্য অংশে বদলি করা হয়।
৬। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে সংবিধানে “বহির্ভূত অঞ্চল” থেকে “ট্রাইবাল এরিয়া” ঘোষণার মাধ্যমে শাসনের শেকলে বাঁধে। আর অন্য দিকে কাপ্তায় বাঁধের ফলে ১০০০০০ চাকমা ও হাজং বাস্তুচ্যুত হয়। এবং
৭। ১৯৬৪ সাল থেকে বাঙালিরা পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনীতিকরনের বীজ বপন করে।

দুর্বিষহ বাস্তবতাঃ
১৯৫৭ সালে যখন বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় তখন কেউই এর ভয়াবহতা আঁচ করতে পারেনি। সমগ্র জনগন ছিল উদাসীন, তারা বিশ্বাসই করতে পারেনি যে একটি মাত্র বাঁধের ফলে তাদের বাড়িঘর পানিতে ডুবে যেতে পারে। এম. এন. লারমার স্মৃতিচারণা মূলক গ্রন্থ থেকে জানা যায় ঐ সময় শুধু মাত্র আসন্ন বিপর্যয় সম্পর্কে আরো কিছু পাহাড়ি যুবককে নিয়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন জুম্ম জাতিয়তাবাদের জনক এম এন লারমা, তারা কয়েকজন মিলে জনমত গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে যার কারনে তাকে পুলিশের হাতে আটক হতে হয়। আর অপরদিকে চাকমাদের পুরো এলিট অংশ চাকমা রাজ পরিবার, তৎকালীন অভিজাত দেওয়ান, খীসা, তালুকদার কেউই এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্রয়োজন মনে করেনি, তারা ছিল নিশ্চুপ।

১৯৬২ সালে নির্মাণ কাজ শেষে যখন কাপ্তায় বাঁধের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় তখনোই প্রথম এ বিপর্যয়ের সাথে সাধারণ মানুষ মুখোমুখি হয়। কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিলনা। দেখতে দেখতে ফুলে উঠছিল তিন নদীর বিশাল জলরাশি। চোখের নিমিষেই ডুবে যাচ্ছিল ফসলি জমি, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডুবে যাচ্ছিল বসত ভিটা। চারদিকে তখন হাজার হাজার মানুষের কান্নার রোল। বাসভূমি হারানোর কান্না, দেশান্তরি হওয়ার কান্না, ফসলি জমি হারানোর কান্না, কিন্তু ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকা ছাড়া তখন আর কিছুই করার ছিলনা। অবশেষে চাকমা রাজবাড়িটাও তলিয়ে যায় কাপ্তায় বাঁধের নিচে, আর রাজবাড়ি ঘিরে গড়ে ওঠা চাকমাদের সমষ্ট সিষ্টেম, অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা তখন ধ্বসে পরে। এ অঞ্চলের সমগ্র চাষযোগ্য উর্বর ভূমির ৪০% পানির নিচে তলিয়ে যায়। ১৮ হাজার পরিবারের ১ লক্ষ লোক নিজ বাসভূমি হারায় যার সিংহভাগ ছিল চাকমা জনগোষ্টির।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, অনেক চেষ্টার পর চাকমারা বর্তমান রাঙামাটিতে জুম চাষের পরিবর্তে জমি চাষে অভ্যস্ত হয় কিন্তু কাপ্তায় বাঁধের ফলে তারা পুনরায় জুম চাষে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। উর্বর জমি ফেলে ১ লক্ষ মানুষকে নিজের আবাস খুজে নেওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় কাচালং রিজার্ভ ফরেস্টের গহীন অরণ্যে। তৎকালীন মূল্যে যে জমির দাম প্রতি হেক্টরে ছিল ৫০০০ টাকা সে জমির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকার থেকে দেওয়া হয় হেক্টর প্রতি ৫০০-৭০০ টাকা (তাও প্রশাসনের হযবরল ব্যাপস্থাপনার কারনে অনেকেই সেই ক্ষতিপূরণটাও পায়নি)। কিন্তু গহীন অরন্যেকে কেটে ফসল ফলানোর উপযোগী করতে যে সুদীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন সে সবের জন্য কোন ব্যাবস্থায় নেওয়া হয়নি। এই মহা দুর্যোগকে চাকমারা বলে থাকে “বর পড়ং” যার বাংলা “মহা স্থানান্তর”। কার্যত পক্ষে কয়েক বছরের মধ্যে গহীন অরণ্য সাফ করে ১ লক্ষ লোকের বাসস্থান ও খাবারের ব্যাবস্থা করা ছিল অসম্ভব। যার কারনে ৪০,০০০ চাকমা জনগোষ্ঠী নিজ পিতৃভূমি ছেড়ে পাশের দেশে যেতে বাধ্য হয়।

যে রক্ত স্রোত আমরা ভূলে গেছিঃ
১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের সাথে যাওয়ার কথা থাকলেও পাকিস্তানের সাথে জুরে দেওয়া হয়। যার কারণে দেশ ভাগের পর পরই পাহাড়ি নেতৃবৃন্দ তৎকালীন ভারতীয় নেতৃত্তের সাথে দেখা করে কিন্তু সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তারা তেমন গুরুত্ব দেননি। একারণেই হয়ত কিছুটা দায়বোধ থেকে চাকমাদের বিপর্যয়ের সময় ভারত সরকার(জহরলাল নেহেরু’র সময়) সম্মতিক্রমে ৪০,০০০ চাকমা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে অভিবাসী হিসেবে গ্রহন করতে সম্মত হয়। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের সহায়তায় তাদের ভারতে প্রবেশ করানো হয় এবং তাদের প্রত্যকে ভারতে অভিবাসী সম্মতি পত্রের প্রমাণ স্বরূপ একটি করে কার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশই অশিক্ষিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হওয়ায় অনেকেই সেই কার্ড হারিয়ে ফেলেন।

যারা শরণার্থী হিসেবে গিয়েছিলেন তাদের অনেকেই দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু যখন এসে দেখেন যে তাদের জন্য কোন কিছুই আর অবশিষ্ট নেই, সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে তখন তারা পুনরায় ভারতে ফিরে যান। এর পর শুরু হয় তাদের দীর্ঘ অমর্যাদাকর জীবন, দেশহীন ভাসমান জীবন। অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসরত চাকমারা পরাধীন হলেও নাগরিকত্ব হীন নয়। কিন্তু সেই ৪০,০০০ চাকমা জনগোষ্টিকে না নিজ পিতৃভূমি তাদের ফেরাতে চেয়েছে না ভারত তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। কারণ ততদিনে সরকার বদল হয়েছে, পাকিস্তান নাম বদলে বাংলাদেশ হয়েছে কিন্তু কোন সরকারই আর তাদের দায় নেয়নি। আমাদের রাজনৈতিক দল গুলোর পক্ষ থেকেও তাদের জন্য কোন দাবী জানানো হয়নি। আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও কখনো তাদের কথা বলা হয়নি। আমরা হয়ত ভূলেই গেছি তারাও আমাদের রক্তের ভাই, তারাও এ ভূমির বাসিন্দা, আত্মসম্মানবোধ নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার তাদেরও! রাস্ট্র বদল হোক বা সরকার বদল হোক নিজ পিতৃভূমিতে তাদেরও অধিকার কখনো খর্ব হওয়ার কথা নয়। অথচ আজ ৬ দশক ধরে তারা অবমাননাকর শরণার্থী নাম নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে খবরটুকু পর্যন্ত আমরা রাখিনি।

অধিকার দু দেশেই তবু তারা নাগরিকত্বহীনঃ
এ ৪০,০০০ চাকমাকে পরে সুদূর অরুণাচল প্রদেশে স্থানান্তর করা হয়। এ ছয় দশক সময়ে দেশহীন শরণার্থীর দলে যোগ হয় আরো কয়েক প্রজন্ম। তাদের পূর্ব পূরুষেরা এ দেশের মানুষ হতে পারে কিন্তু কয়েক প্রজন্ম পরে যারা সেখানে জন্মগ্রহন করছে তারা তো সেখানে জন্মগত অধিকার নিয়েই জন্মাচ্ছে! তারা কেন নাগরিকত্বহীন হবে? হ্যা! আমাদের কোন সহায়তা ছাড়ায় তারা সেখানে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায়। নিজের অধীকারের জন্য লড়ে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, ভারতীয় হাইকোর্ট ও এ বছর (২০১৫ সালে) এপ্রিলে ছয় দশক পরে চাকমাদের সিটিজেনশীপ দিতে সম্মত হয়। কিন্তু তাতে বাঁধ সাধে রাজ্যে সরকার। তারা নানা অজুহাতে চাকমাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করে। এর পিছনের কারণটা অবশ্যই ভিন্ন- (এখানে উল্লেখ্য যে ভারতের রাজ্যগুলো স্বায়ত্তশাসিত হওয়ায় কেন্দীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও রাজ্য সরকার একমত না হলে তা বাস্তবায়িত হয়না, এ একই কারণে বাংলাদেশের সাথে তিস্তা চুক্তিটিও কার্যকর হচ্ছেনা) ।

সমগ্র অরুনাচলের আয়তন ৮৩,৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার যা আয়তনে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি কিন্তু জন সংখ্যা মাত্র ১৩ লক্ষ ৮২ হাজার ৬১১ জন। এ সল্প জনসংখ্যার মধ্যও চাকমা সহ ২৭-২৮টি জাতিগোষ্টির বাস যাদের মধ্য নিশি জনগোষ্ঠী(৮৭,৬৫৬ জন) ছাড়া সব জনগোষ্ঠিই সংখ্যাগত ভাবে পঞ্চাশ হাজারের কম! অন্যদিকে নিশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি হলেও তারা রাজনৈতিক ভাবে এতটা সক্রিয় নয় যার ফলে চাকমাদের নাগরিকত্ব দিলে প্রধান ডোমিনেন্ট জাতিগোষ্ঠিতে পরিণত হবে চাকমারা(সেখানে চাকমাদের সংখ্যা ৫০-৬০ হাজার)। এই ভয় থেকেই অরুনাচলের রাজ্য সরকার চাকমাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাখান করে আসছে। চাকমাদের নাগরিকত্বহীনতার জন্য জাতিগত ভাবে যে গোষ্ঠীটি জরিত তা হল সিংপো জনগোষ্টি। তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয় কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে তারা প্রভাবশালী। চাকমারা যদি নাগরিকত্ব পায় তাহলে তারা বর্তমান একচেটিয়া প্রভাব বা ক্ষমতা খর্ব হবে। একারণেই তারা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বদিচ্ছা সত্তেও চাকমাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

এদিকে তারা অরুণাচলে অধিকারের জন্য লড়লেও যারা এখনো নিজ পিতৃভূমিতে ফিরতে চায় তাদের ভূমির অধিকার এ দেশে অস্বীকার করা যায় না। প্রয়োজন বোধে আমরা আশির দশকে যেসব সেটেলারদের অবৈদভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল তাদের সমতলে সম্মানজনক পুনর্বাসন করে ভূমি পুত্রদের ফিরিয়ে আনতে পারি।

উপসংহারঃ
আর কতকাল আমরা বিচ্ছিন্ন থাকব? আর কতকাল আমরা অধিকারহীন হয়ে থাকব? আর কতকাল আমরা আমাদের ভাই, আমাদের রক্ত স্রোতকে ভূলে থাকব? পার্বত্য চট্টগ্রাম যতবারই আক্রান্ত হয় তারা নিজের সর্বস্ব দিয়ে সংহতি জানায়। আমাদের হয়ে তারা প্রতিবাদ করে। নিরুপায় হয়ে আমদেরই কেউ যখন বর্ডার পার হয়ে সেখানে পৌছায় তারা আশ্রয় দান করে। আমাদের ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে তারা মর্মাহত হয়। আমাদের এখনো মূল চাকমা রাজ্যর অধিবাসী হিসেবে সম্বোধন করে। অথচ এখনো পর্যন্ত আমরা তাদের কোন কর্ম সূচিতেই সংহতি জানানো দূরের কথা সেখানে তারা কেমন আছে তার খবরও রাখিনি।

পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে অনেক আগেই, কিন্তু যা আছে তাও যদি হারায় তবে নিজ ভূমিতেই আমরা চিরকালের জন্য পরাজিত হব। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের নতুন প্রজন্ম এবং রাজনৈতিক ব্যাক্তি বর্গের প্রতি আহ্বান, আসুন আমরা নিজেদের মধ্য রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক এলাইন্স গঠন করি। ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময় সহ রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে আমরাও সীমানার ওপারের ভাইদের পাশে দাঁড়ায়।

বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ পিপল ভার্সেস পাওয়ার গবেষনা পত্রটির গবেষক কে।

✍️ লেখক: বাসু দেব চাঙমা

Spread the love
RannyePhul

Explore Chakma Literature, Culture & History

https://rannyephul.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *