পার্বত্য চট্টগ্রামের আলোকিত মানুষ

প্রারম্ভিক বক্তব্য: একটা শতাব্দীকে পেছনে ফেলে এসেছি আমরা। মহাকালের গর্ভে এই একশ’টা বছর হয়তো তেমন কিছুই নয়। কিন্তু একটা সমাজ বা একটা জাতির ক্রমঃবিকাশ তথা অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে সেটা অনেক কিছু। নূতন এই শতাব্দীর সূচনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরা ফিরে তাকাতে চেয়েছি আমাদের অতীত ইতিহাসের দিকে। পার্বত্যাঞ্চলের ভিন্ন ভাষাভাষী এগার জনগোষ্ঠীর সামাজিক, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিত্রকলা, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্মসহ তাবৎ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধনের জন্য জুম্মদের মধ্যে অনেকেই অবদান রেখেছেন। কিন্তু আমদের অসচেতনতা হেতু তাঁরা হারিয়ে যাচ্ছেন বিস্মৃতির আড়ালে। কিংবা কেউ কেউ জীবিত থেকেও এসব জনহিতকর কাজে নিয়োজিত আছেন। তাঁদের অবদানকে স্বীকার করে আমরা নিতান্ত ক্ষুদ্র প্রয়াসে এই প্রকাশনার মাধ্যমে সেসব তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছি। এই ‘প্রোফাইল’ ছাপাতে গিয়ে আমরা ‘জুম ঈথেটিকস্ কাউন্সিল’ এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সেসব স্মরণীয় এবং বরণীয় ব্যক্তিদের সম্পর্কে নানা তথ্য এবং উপাত্ত সংগ্রহ করেছি! আমাদের অসতর্কতা কিংবা অজ্ঞতার কারণে হয়তো কেউ কেউ বাদ পড়ে থাকবেন আমাদের এই তালিকা থেকে। আমরা সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে করজোরে ক্ষমা প্রার্থী। আবার যথাসময়ে কারো কারো ‘প্রোফাইল’ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি বলে আমরা সেগুলো ছাপাতে পারিনি। বিবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে ধর্মীয় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভূত অবদান রাখা শ্রদ্ধেয় রাজগুরু ভন্তে, বিমলতিষ্য ভন্তে, প্রজ্ঞানন্দ ভন্তে এবং শ্রদ্ধালংকার ভন্তের ‘প্রোফাইল’ আমরা ছাপাতে পারিনি। এছাড়াও আমাদের তালিকায় ছিলেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে স্বর্গীয় স্নেহ কুমার দেওয়ান, স্বর্গীয় কার্তিক চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা, স্বর্গীয় যোগেন্দ্র কুমার দেওয়ান এবং অরুন চাকমা, প্রীতি রাণী চাকমা ও শর্মীলা রায় এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের ‘প্রোফাইল’ তথ্য ঘাটতির জন্য আমরা ছাপাতে পারিনি। একটা কথা আমরা জোর গলায় বলতে চাই, কোনরূপ পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমরা এই কাজে হাত দিইনি। অত্যন্ত সরল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমরা সেসব গুণী ব্যক্তিদের অবদান এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একাজ করতে গিয়ে যাদের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগীতা পেয়েছি আমরা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি । নিম্নে আমরা সেসব খ্যাতিমান ব্যক্তি তথা আলোকিত মানুষদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও অবদান বর্ণক্রম অনুযায়ী নিবেদন করছি।

অশোক কুমার দেওয়ান
(১৯২৬ – ১৯৯১ইং)

অশোক কুমার দেওয়ান ১৯২৬ইং সালে বর্তমান মগবান ইউনিয়নের বড়াদাম গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯৯১ইং সালে ৯ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্নাতক (বি,এ) পাশ করার পর ১৯৫৪ সালে নিজ গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৫৫ সালে খাগড়াছড়ি হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ইং সালে তিনি রাঙামাটি উপজাতীয় সাংস্কৃতিকৎ ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদে যোগদান করেন এবং ১৯৮৪ইং সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি চাকমা জাতির বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করেন। এ যাবত কালের চাকমা প্রচলিত ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য ও সত্রগুলির দুর্বলতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে তিনি প্রথম সন্দেহ পোষণ করেন এবং চাকমাদের ইতিহাস অনুসন্ধানের জন্য ভাষার বিবর্তণ ও বিশ্লেষণের উপর জোর দেন। “চাকমা জাতির ইতিহাসে অষ্টাদশ শতক” এবং “নৃ-তত্ত্বের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি” শীর্ষক প্রবন্ধ উ,সা,ই-এর গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৯৭৮ এবং ১৯৮২ইং সালে । তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ হলো “চাকমা জাতির ইতিহাস বিচার” এবং “চাকমা ভাষার শব্দকোষ”। আদিবাসী ভাষা বিশেষতঃ চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ভাষায় শিক্ষার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। লেখালেখি ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি সমাজ হিতৈষী কাজের সাথে জাড়িত ছিলেন। সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি খাগড়াছড়ির খবংপুরিয়ায় স্বনির্ভরগ্রাম গড়েছিলেন। এ জন্য তিনি ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি পদকও পেয়েছেন ।

ইরা চান মুরং

ইরা চান মুরং চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পড়াশুনা করেন। তিনি সেন্ট প্লাসিড হাই স্কুল চট্টগ্রাম থেকে মেট্রিক পাশ করেন। মুরং সমাজে তিনিই প্রথম মেট্রিকুলেট। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বান্দরবান জুনিয়র হাইস্কুলে (বর্তমান গার্লস স্কুলে) শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হন। পরে বেশ কিছুদিন আবহাওয়া অধিদপ্তরে চাকুরী করেন। পরে সড়ক ও জনপদ বিভাগে সুপারভাইজার হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে সেকশনাল অফিসার পদে নিয়োগ পান। ১৯৯২ সালে সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা ছাড়া মুরং সমাজের উন্নতি সম্ভব নয় বলে তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন। এজন্য তিনি শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতেন। তিনি মুরংদের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মিলিত হলেই মুরংদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় কথা বলতেন এবং অনুপ্রেরণা যোগাতেন। তাঁর প্রদর্শিত পথে আজ অনেক মুরং শিক্ষিত হচ্ছে। তাঁর ছয় সন্তানের মধ্যে সবাই উচ্চ শিক্ষিত। তিনি ১১ই এপ্রিল ১৯৯৮ইং মৃত্যু বরণ করেন।

কল্পতরু চাকমা
(১৮৭০-১৯৫৮ইং)

স্বর্গীয় কল্পতরু চাকমা ১৮৭০ খৃষ্টাব্দে মেয়নীর উগুদুয়াছড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। কোন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী না থাকলেও হাতের কাজে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামে হস্তীদন্ত শিল্প প্রসারে তাঁর অবদান রয়েছে। পাহাড়ীরা সাধারণতঃ যে সব কাজ জানত না সেই সব কাজ তিনি শুরু করেন, যেমন- বন্দুক মেরামত, কামানের কাজ, বাদ্যযন্ত্র মেরামত ইত্যাদি। তাছাড়াও স্বর্ণকারের কাজও করেছেন যা চাকমা সমাজে বিরল। তিনি ১৯৫৮সালে নিজ গ্রাম কাকপৰ্য্যা মুখ গ্রামে মৃত্যু বরণ করেন ৷

কামিনী মোহন দেওয়ান
(১৮৯০ – ১৯৭৬ সাল)

তিনি রাঙ্গামাটি সদর থানার ১০৭ নং বরাদম মৌজায় বরাদম গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি এন্ট্রাস পাস করেন। পিতার মৃত্যুতে অল্প বয়সে তাঁকে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে হয়। নাবালক ভাইবোনদের পক্ষে পারিবারিক ৬টি মৌজায় শাসন কার্য এবং প্রায় দুই হাজার একর পার্বত্য জেলার জমিদারী ও রাঙ্গুনীয়া কালেক্টরী এলাকাস্থ শতাধিক দ্রোন জমির পরিচালন কার্য তাঁর উপর বর্তায়। বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি একজন দায়িত্ববান ও কর্মক্ষম ব্যক্তি হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হন। তিনি পার্বত্যবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে এখানকার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সংস্কার ও নিজেদের দাবী দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে “জনসংহতি সমিতি” নামে সর্বপ্রথম এক সমিতি গঠন করেন । উপমহাদেশ বিভাগোত্তর কালে পার্বত্যবাসীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জনসমিতির পক্ষ্যে ভারত উপমহাদেশের তৎকালীন শীর্ষ নেতা মহাত্মাগান্ধী, দেশ বন্ধু চিত্তঞ্জন দাস, তৎকালীন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট কৃপালনী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেন্দ্র প্রসাদ বাহাদুর, বল্লভ ভাই প্যাটেল প্রমূখ নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। রাজনৈতিক কারণে জনসমিতি নিষিদ্ধ (band) করা হলে তিনি “হিলট্রেক্ট পিপলস্ অর্গানাইজেশন” নামে আরো একটি সমিতি গঠন (১৯৫০)। তিনি ১৯৫৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। একজন সামন্ত প্রভু হয়ে ও তিনি আজীবন সাধারন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন “পার্বত্য চট্টলের এক দীন সেবকের জীবন কাহিনী” নামে তাঁর এক আত্মজীবনী রয়েছে। ১৮৫৪-৫৫ খৃষ্টাব্দে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রামে উপজাতীয় ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠিত হয় ।

কৃষ্ণ কিশোর চাকমা
(১৮৯৫ – ১৯৩৪)

১৮৯৫ ইং সালে ১৪ জুলাই তৎকালীন নানিয়ারচর থানার ঘিলাছড়ি বাজারের কেরেতকাবা মোনতলা নামক স্থানে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। চট্টগ্রামে কলেজ হতে ১৯১৯ সালে তিনি বি.এ পাশ করেন। BT ট্রেনিং শেষে ১৯২১ সালে তিনি শিক্ষা বিভাগের সাব ইন্সপেক্টর পদে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সার্কেলে স্থায়ীভাবে যোগদান করেন। চাকুরী জীবনে প্রবেশের পর থেকে তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য তাঁর সার্কেলের যেখানে যেখানে সম্ভব সে সব স্থানে বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। তাঁর অনুপ্রেরনাতেই তখন প্রায় স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। একটা সাইকেল নিয়ে কখনো পায়ে হেঁটে, কখনে৷ সাইকেল চড়ে তিনি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন। স্কুলে মঞ্জুরী, সরকারী সাহায্য ও শিক্ষকের বন্দোবস্ত সমস্ত তিনি নিজ উদ্যোগে করতেন। প্রতিভাবান ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা ও যে কোন সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি যোগ্যতা সম্পন্ন লোকদের তিনি শিক্ষকতার কাজে নিয়োগ করতেন। এছাড়াও শিক্ষিত লোকদের তিনি ‘ট্রেনিং’ এর ব্যবস্থা করে দিতেন। ১৯৩৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি দেহ ত্যাগ করেন।

চূনীলাল দেওয়ান
(১৯১১-১৯৫৫ সাল)

১৯১১ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অন্তর্গত দীঘিনালা থানায় চনী লাল দেওয়ানের জন্ম। রাঙ্গামাটি সরকারী উচচ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নের পর কলকাতা আর্ট কলেজে প্রাচ্য (ওরিয়েন্টাল ডিপার্টমেন্ট) বিভাগে ভর্তি হন। প্রাপ্ত বৃত্তি এবং কমার্শিয়াল কাজ করেই ১৯৩৪ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। তিনি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়; বাংলাদেশের প্রথম একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত চিত্র শিল্পী ছিলেন । পোশাক-পরিচছদে খুবই সংক্ষিপ্ত এই গুণী চিত্র শিল্পী জীবনের অধিকাংশ সময়ই ঘরের চৌহদ্দিতে কাটিয়েছেন । ৬০ নং ছয় কুড়ি বিল ও ৬১ নং মাইচছড়ি মৌজার প্রধান নিয়োগ পাওয়ার পর এলাকার জনগণের হীতার্থে তিনি নিজেকে আত্মোনিয়োগ করেন। ১৯৪৫ সালের ১৪ই আগষ্ট পক্ষকাল ব্যাপী ঢাকা আর্ট কলেজে লোকশিল্প Folk Arts Exhibition অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য তিনি সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেন। এই প্রদর্শনীর পর শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীন ও কামরুল হাসানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। ধনমনি চাকমার প্রবন্ধে তাঁর শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রকাশনায় বিষদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও তিনি চাকমাদের মধ্যে প্রথম আধুনিক কবিতা ও গান লিখেন। এই মহান চিত্রশিল্পী ১৯৫৫ সালের ২৪শে ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

রাজা দেবাশীষ রায়

রাজা দেবাশীষ রায় ৯ এপ্রিল, ১৯৬০ সালে চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। অতি অল্প বয়সে ১৯৭৮ সনে তিনি রাজা হিসাবে অভিষিক্ত হন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজেকে যোগ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের মধ্যে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘গেংখুলী’ শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আধুনিক চাকমা গানের বিকাশে তাঁর গুরত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। লেখালেখির সাথেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ইতোমধ্যে তাঁর অসংখ্য গান, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। রাজা তথা সমাজ প্রধান হয়েও সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাবার প্রশংসণীয় গুণের অধিকারী তিনি। রাজত্ব ছাড়াও শিল্প-সংস্কৃতি, পরিবেশ প্রভৃতির উপর তিনি ইতিমধ্যে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। এর পাশাপাশি তিনি আইন ব্যবসার সাথেও জড়িত।

দীপংকর শ্রীজ্ঞান চাকমা

কবি দীপংকর শ্রীজ্ঞান চাকমা ১৯৪৯ সালের ৩০শে ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি কোতোয়ালী থানাধীন মহাজন পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে ইংরেজী সাহিত্যে বি,এ (অনার্স) ও এম,এ পাশ করেন। চাকমা সাহিত্যে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কবি দীপংকর শ্রীজ্ঞান চাকমা কর্তৃক ঢাকা কলেজ বার্ষিকীতে ১৯৮৩ সালে লিখিত “অন্যমনে’ কবিতাটি ঐ বৎসর রাশিয়ার রুশ ভাষায় একটি বাংলা কবিতা সংকলনে অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়। তাঁর লিখিত ইংরেজী প্রবন্ধও বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে চাকমা কবিতা লেখেন। তাঁর ‘পাদারঙ কোপানা’ (১৯৭৮ইং) এবং ‘অন্তৰ্গত বৃষ্টিপাত’ (১৯৭৮ইং) নামে দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তিনি নতুন নতুন চাকমা শব্দের যেমন- ঈদ’ঘর (স্মৃতির ঘর), বুগ’ জুম (বুকের জুম), জুনি রেইত (জোনাকীর রাত) ইত্যাদি সৃষ্টি করে চাকমা সাহিত্যে তাঁর অতুলনীয় অবদান রাখেন। তাঁর অনেক কবিতা পরবর্তী কালে সুর দিয়ে গান করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১০ই প্টেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু হয়।

নোয়ারাম চাকমা

তিনি ১৯৫৯ সনে “চাকমার পত্তম শিক্ষা” নামে বই প্রকাশ করেন । চাকমা বর্ণমালার উপর ছাপার অক্ষরে এটিই প্রথম বই। বইটি সুধী সমাজের মধ্যে আলোড়ন তোলে । তৎকালীন ইষ্ট পাকিস্তান স্কুল টেক্ট বুক বোর্ড বইটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পাঠ্য তালিকাভুক্ত করেছিল। বর্ণমালা ছাড়াও চাকমাদের প্রাচীন লোক-গীতির অনেক পান্ডুলপি যেমন- স্বর্গপালা, লক্ষীপালা, বুদ্ধপালা প্রভৃতি সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি নিজেও চাকমাদের প্রসিদ্ধ লোকগীতি ‘রাধামন ধনপুদি পালা’র উপর পান্ডুলিপি লিখেছেন। তিনি কিছু সংখ্যক বইও প্রকাশ করেছেন। করেছিলেন। তার মধ্যে চাকমাদের ইতিহাসের উপর “পার্বত্য রাজ লহরী”, কবিগানের উপর “পরিবার পরিকল্পনার গান” (১৯৭৭ইং) উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তার কয়েকটি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছিল । চাকমা বর্ণমালা এবং ব্যাকরণের উপর তাঁর দুইটি অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি রয়েছে। সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি নিয়ে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। ১১ই আগষ্ট’৭৮ ইং তারিখে এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ইহলোক ত্যাগ করেন।

শ্রী বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান

শ্রী বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান আনুমানিক ১৯১৯ সালে রাঙামাটি জেলার বুড়িঘাটের মহাপ্রু মে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ম্যট্রিকুলেট ছিলেন। চাকমা সাহিত্যে তিনি একজন শক্তিশালী লেখক। নিরলস সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছেন। তিনি মলতঃ গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। তার অসংখ্য গল্প, রূপকথা ও প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি চাকমা রূপকথা ও লোক কাহিনীগুলো সংগ্রহ করে তা পাঠকের কাছে তুলে ধরে চাকমা লোক সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি চাকমা অভিধান রচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি কয়েক হাজার চাকমা শব্দ সংযোজন করেছেন। সে অপ্রকাশিত অভিধানটির পান্ডুলিপি স্বনামখ্যাত লেখক ভগদত্ত খীসার কাছে ছিল। লেখক খীসার পুরাতন বাড়িটি আগুনে পুড়ে গেলে সেই সাথে এ অতি অভিধানটিও পুড়ে যায়। মূল্যবান সে অভিধানটি যদি প্রকাশিত হতে পারত তাহলে চাকমা শব্দ ভান্ডার আরো পুষ্ট হতো। তাঁর ‘চাকমা রূপকথা’ এবং ‘চাকমা জাতীয় বিচার পদ্ধতি ও চাকমা উত্তরাধিকার প্রথা’ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ । তিনি ১৯৯১ সালের ২৫শে অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

বিরাজ মোহন দেওয়ান
(১৯০১ – ১৯৭৬ সাল)

চাকমা সমাজের এই বরেণ্য ব্যক্তির জন্ম ১৯০১ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর। ১৯৫৯সালে ‘সরোজ আর্ট প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকাশনার জগতে এক নূতন দিগন্ত উন্মোচন করেন। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত সেটাই ছিল অত্র অঞ্চলে একমাত্র প্রেস। ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর প্রেস থেকে মাসিক “পার্বত্য বাণী” প্রকাশ করেন যা ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত চালু ছিল। তিনি সেই পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে “চাকমা, জাতির প্রাচীন সভ্যতা”, “চাকমা জাতির পরিচয়”, চাকমা জাতির পরিচয় ক্ষেত্রে তথ্যমূলক বিবরণ”, “সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের পার্বত্য চট্টগ্রাম”, “চাকমা জাতির প্রাচীন রাজ বংশের ইতিহাস” প্রভৃতি ধারাবাহিক প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তাঁর রচিত “চাকমা জাতির ইতিবৃত্ত” চাকমাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের অন্যতম দলিল। ১৯৭৬ সালের ১৪ই মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিমলেন্দু দেওয়ান

বিমলেন্দু দেওয়ান চল্লিশের দশকে রাঙ্গামাটির ঝগড়াবিল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত Rehabilatation বিভাগে wellfare অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। বিমলেন্দু দেওয়ান চাকমা সংগীতের ক্ষেত্রে এক অনন্য নাম। সত্তরের দশকে তিনি অনেক চাকমা গানের রচনা ও সুরারোপ করেন এবং চাকমা সংগীতের প্রসারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা রাখেন ৷ সুরেলা কন্ঠের অধিকারী বিমলেন্দু দেওয়ান ধলাচান নামেই সমধিক পরিচিত। এ ক্ষণজন্মা শিল্পী ১৯৮০ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারী মৃত্যু বরণ করেন ।

বিপুলেশ্বর দেওয়ান

বিপুলেশ্বর দেওয়ান ১৯১৬ সালের ৩১শে অক্টোবর বর্তমান জুরাছড়ি থানাধীন বনযোগীছড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪০ খৃষ্টাব্দে চট্টগ্রাম কলেজ হতে বি.এ. (অনার্স) পাশ করেন। এর পর তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে এম,এ, পরীক্ষা স্থগিত হলে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ছাত্রজীবন শেষে তিনি দিল্লীর মিলিটারী হেড কোয়ার্টার, কলিকাতা কাষ্টম্স অফিস, সিভিল সাপ্লাই বিভাগে চাকুরী করেন এবং ১৯৪৫ সালে রাঙ্গামাটি সরকারী স্কুলের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার
অভিযোগে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৪৭ সালে তাকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। চাকরী থেকে বরখাস হওয়ার পর জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। পরে তিনি ব্যবসা ছেড়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর (প্রাইভেট টিউশন) কাজে নিয়োজিত হন। তাঁর কাছ থেকে পাঠ নেওয়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক সময় তিনি লেখালেখিও করতেন। ছাত্রজীবনে “প্রগতি” নামক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন (১৯৩৭/৩৮)। এ নিভৃতচারী লেখকটি বার্ধক্য জর্জরিত হয়েও এখনো ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকৃত মানুষ গড়ার কাজে রত আছেন। আদিবাসীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বরেন্দ্র কুমার ত্রিপুরা

তিনি ১৯২০ সালের ১৬ই জুলাই খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সদর থানাধীন ১নং খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের ঠাকুরছড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের ত্রিপুরাদের মধ্যে দ্বিতীয় ম্যাট্রিকুলেট। ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেন। এবং মুজিবনগর সরকারের প্রবাসী ইষ্টার্ন জোনাল অফিসে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি লেখালেখিতে অভ্যস্থ ছিলেন। The Tripuras of Chittagong Hill Tracts, পূব-ই-রাবইলি সাল (ত্রিপুরা ভাষায়), পুন্দা তান্নায় গীতিকাব্য (ত্রিপুরা ভাষায় ত্রিপুরা বা রোরো), অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সমস্যা সমাধান সম্পর্কে দু’টি কথা প্রভৃতি পুস্তক রচনা করেন । তৎকালীন রাঙামাটিতে পাকিস্তান আর্ট কাউন্সিল রাঙামাটি শাখা প্রতিষ্ঠায় তার যথেষ্ট অবদান আছে। তিনি দীর্ঘদিন ত্রিপুরা উপজাতি কল্যাণ সংসদের সাথে জড়িত থেকে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত দিলেন। রাঙামাটিতে দুটি মহাশ্মশান প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ১২ই এপ্রিল, ১৯৩৭ইং রাইংখং থানার (বর্তমান বিলাইছড়ি থানা) ১২২ কুতুবদিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন ।
প্রবন্ধ,বিভিন্ন ছাত্র জীবন থেকে তিনি লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। তাঁর অনেক কবিতা, ছোট গল্প, পত্র পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর জুমিয়া সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিষয়ে লেখা প্রবন্ধগুলো পাঠককে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে এবং মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন । এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সাস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। তিনি বাংলাদেশের তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা পরিষদের আহবায়ক ।

ডাঃ ভগদত্ত খীসা

ডাঃ ভগদত্ত খীসা ১৯৩৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর (১৫ই ভাদ্র) নান্যারচর সাবেক্ষং-এ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি নান্যারচর মধ্য ইংরেজী স্কুলে (গউ. ঝপযড়ড়ষ) লেখাপড়া শুর করেন। চট্টগ্রামের জে.এম,সেন ইনষ্টিটিউট থেকে ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৫৩ইং সালে আই,এস,সি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৫ সালে বি,এস,সি পাশ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে ১৬ই ফেব্রুয়ারী রিজার্ভ বাজারে চিকিৎসা কর্মের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন এবং অদ্যাবধি সে কাজে নিয়োজিত আছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি লেখালেখির সংগে জড়িত ছিলেন। জগন্নাথ কলেজে ও ঢাকা হলের বার্ষিকীতে তাঁর কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হয়। তার রচিত অনেক চাকমা কবিতা বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত অনেক চাকমা গান এখনও বেশ জনপ্রিয়। চাকমা ভাষায় প্রথম “লিমেরিক” তিনিই লেখেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থ হলো ‘চাকমা তালিক চিকিৎসা’। এছাড়া তাঁর রচিত নির্দেশিত নাটকের ছায়া অবলম্বনে “অয় নয় বৈদ্য” মঞ্চায়িত হয়।

মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা
(১৯৩৯ – ১৯৮৩ সাল)

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার মহাপুরম গ্রামে (বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে বিলুপ্ত) জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ হতে স্নাতক ডিগ্রী, ১৯৬৮ সালে বি,এড এবং ১৯৬৯ সালে এল,এল,বি পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দিঘীনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মজীবন শুiণ করেন। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনে যোগ দেন। ছোটকাল থেকেই তিনি পাহাড়ীদের অধিকারের বিষয়ে চিন্তাশীল ছিলেন। ১৯৬০ সাল থেকেই তিনি পাহাড়ী ছাত্র সমাজের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬২ সালে ঐতিহাসিক পাহাড়ী ছাত্র সম্মেলন তাঁরই নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী তিনি জনসংহতি সমিতি গঠন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে সরকারী প্রতিনিধি হিসাবে লন্ডন সফর করেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্টের পর আত্মগোপন করেন। শান্তিবাহিনীর ভাতৃঘাতী সংঘর্ষে ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বর তারিখে তিনি নিহত হন। তাঁর নেতৃত্বেই মূলতঃ জুম্ম জাতীয়তাবাদের সূচনা এবং বিকাশ। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের রাজনৈতিক ভাবে এতটা আলোড়িত তাঁর মত আর কেউ করতে পারেননি। আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে তাঁর কর্মকান্ড
এখন কিংবদন্তীতুল্য ।

মোহন বাঁশী চাকমা
(১৯০১-১৯৮০ সাল)

মোহন বাঁশী চাকমা ১৯০১ সালে মেয়নী উগুদুয়াছড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলতঃ একজন কৃষিজীবি । কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি পৈতৃক সুত্রে পাওয়া হস্তীদন্ত কারুশিল্পের একজন নিপুন শিল্পী ছিলেন। এ মেধাবী গজদন্ত শিল্পী শিল্পচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি খেদারমারা প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। রাঙ্গাদূরছড়িতে শাক্যকুল বৌদ্ধ বিহারে প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান দূরছড়ি বাজার প্রথমে তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন । হস্তীদন্ত শিল্পে কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অনেক পুরস্কার ও প্রশংসা পত্র অর্জন করেন। তিনি ১৯৮০ সালের ৩০শে ডিসেম্বর মৃত্যু বরণ করেন।

মং মং চাক

মঙ মং চাক ১৯৪৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন বাইশারীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ঈদগাঁহ মডেল হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি ১৯৬৮ সালে কুক্সাজার কলেজ থেকে আই,এস,সি এবং ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে বি,এস,সি পাশ করেন। চাকদের মধ্যে তিনিই প্রথম গ্রেজুয়েট । তিনি চাকদের রূপকথা, কিংবদন্তী, গান এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। চাকদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর লেখা মননশীল প্রবন্ধ গুলো পাঠকদের মাঝে বিপুল সাড়া জাগিয়েছে। চাকদের শিক্ষা সমাজও সংস্কৃতির জন্য তিনি নিরলস ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চাকদের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড গুলোতে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

যামিনী রঞ্জন চাকমা
(১৯১৩ -১৯৯৭ সাল)

কর্ণফুলী হ্রদে তলিয়ে যাওয়া লংগদু থানার তুলাবান গ্রামে চাকমা সাহিত্যের এই খ্যাতিনাম লেখক ১৯১৩ খৃষ্টাব্দের ৭ই ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তুলাবান গ্রামের প্রথম বৃত্তিধারী (১৯৩২), প্রথম মেট্রিকুলেট (১৯৩৬), প্রথম সরকারী চাকুরে (১৯৪২), প্রথম গেজেটেড অফিসার (১৯৬৮) ও প্রথম সরকারী পেনশনার (১৯৬৯) ছিলেন। তাঁর লেখা বহু কথিকা চট্টগ্রাম বেতার থেকে প্রচারিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে শিবচরণ, কালিন্দী রানী, রাজর্ষি, সাধেংগিরি, লক্ষীপালা, চাকমা সমাজে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রধান সাহিত্য কর্ম “চাকমা দর্পন” চার খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর অনেক সাহিত্য কর্ম অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়ে গেছে। সেসব প্রকাশের উদ্যোগ নেবার জন্য আমরা সুধী এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।সমাজ সচেতন এই লেখক তাঁর জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছিলেন চাকমা সমাজের সঠিক ইতিহাস অনুসন্ধানের কাজে। আদীবাসী সমাজের নানাবিধ কু-সংস্কার আর অসঙ্গতি তাঁর চমৎকার লিখন শৈলীর মাধ্যমে তিনি সব সময় তুলে ধরেছেন। ধর্ম আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর প্রভূত অবদান । এই মহান বক্তিত্ব ২৫শে অক্টোবর ১৯৯৭ ইং তারিখে তাঁর তাঁর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লারনাগ বম

লারনাগ বম দোহাজারী হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন ১৯৫৮ সালে। ১৯৬০ সালে কানুনগোপাড়া কলেজ থেকে আই.এ এবং চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। তিনি বমদের মধ্যে তথা বান্দরবানে বসবাসরত আদিবাসীদের মধ্যে প্রথম গ্রেজুয়েট । তিনি ১৯৬৬-৬৭ সালের দিকে রমায় রুমা পাইলট হাইস্কুলের (বর্তমানে রমা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। রমা ডাকঘর প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এ ডাকঘরে তিনি বিনাবেতনে দীর্ঘদিন চাকরী করেন। তিনি বম স্যোসাল কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি রুমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বান্দরবান স্থানীয় সরকার পরিষদেরও সদস্য ছিলেন। লারনাগ বম সরকারী চাকুরীর সুযোগ পেয়েও সরকারী চাকুরী না করে বমদের শিক্ষা, সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন ।

সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে)

১৯২০ খৃষ্টাব্দের ৮ই জানুয়ারী রাঙ্গামাটি সদর থানাধীন মগবান মৌজার মোরঘোনা গ্রামে বনভান্তের জন্ম। তাঁর গৃহী নাম ছিল রথীন্দ্র চাকমা। ছোটকাল থেকেই তিনি সংসার জীবন ও ভোগবিলাসের প্রতি ভীষণ উদাসীন ছিলেন ও নির্লিপ্ত ছিলেন। তিনি রোগ-শোক; দুঃখ, জরা-মরন, ভোগ-লালসার অতৃপ্তি-জনিত নানা দুঃখ-দুর্দশা দেখে বিচলিত বোধ করতেন। ১৯৪৯ খৃষ্টাব্দে ২৯ বৎসর বয়সে তিনি প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহার, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, রাইংখ্যা বৌদ্ধ বিহার ধূখ্যাছড়ি বৌদ্ধ বিহার-এ অবস্থান করার পর সত্যের সন্ধানে তিনি ধনপাতার গভীর জংগলে আত্ম নিয়োগ করেন। জংগলে ধ্যান সাধনাকালীন হতে তাঁর জ্ঞানের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি বনভান্তে নামে খ্যাত হন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের সারতত্ত্ব ও নানা যুক্তি উপমাযোগে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দ্বারা এই সদ্ধর্মের মর্মবাণীকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ধারণ করে দেয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টায় নিবেদিত রয়েছেন। অন্যান্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি তিনিও বৌদ্ধ জনসাধারণের মধ্যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যের সংখ্যা তিন শতাধিক । বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করে তাঁর শিষ্যগণ জনসমাজে ধর্মীয় ক্রিয়াকর্ম পরিচালনা করেন ।

সলিল রায়
(১৯২৮-১৯৮১)

১৯২৮ সালের ২৭শে জুন পুরাতন রাঙামাটির রাজবাড়ী এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪১ সালে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৫১ সালে চাকমা রাজার কার্যালয়ে ম্যানেজার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি Times of India পত্রিকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ইস্পাহানী কোম্পানিতে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারও পরে ১৯৬২ থেকে ১৯৮১ ইং পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বোর্ডে চাকুরী করেন। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার, নাট্যকার ও গবেষক ছিলেন। চুনীলাল দেওয়ানের পর তিনিই আধুনিক চাকমা কবিতা লেখেন । যদিও খুব বেশী চাকমা কবিতা তিনি লেখেননি। তাঁর লেখা সেই সময় বিভিন্ন বিদেশী পত্রপত্রিকায়ও ছাপা হয়। তাঁর রচিত বিভিন্ন নাটক বেতারে প্রচার ও মঞ্চে মঞ্চস্থ হয়েছে । ১৯৮১ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

স্বর্গীয় সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ১৯৩৮ সালের ১লা এপ্রিল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা থানার কামাকুটছড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে তিনি বি,এ (পাস) করেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু হয়। .৬১ সালে পুনবাসন বিভাগে এবং একই বছর তথ্য বিভাগের এস,ডি,পি,আর,ও হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। ১৯৭৮ সারে উ,সা,ই-এর সহকারী পরিচালক হিসাবে যোগদানের পর ৮৫তে পরিচালক পদে উন্নীত হন। ত্রিপুরা সমাজ তথা জুম্ম জাতির সাহিত্য, সংগীতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি একাধারে একজন কন্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, যন্ত্রশিল্পী, কবি, প্রবন্ধকার, গবেষক ছিলেন। তিনি বাংলা, চাকমা ও ত্রিপুরা ভাষায় বহু গান, কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন। এছাড়াও তিনি ইংরেজী, উর্দু ও মারমা ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থের মধ্যে “পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিচিতি” (৭৯ইং) এবং “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃতি ও সংস্কৃতি” (৯৪ইং), “ত্রিপুরা পজা পার্বন” (৯০ই), “ত্রিপুরা বা ককবরক ভাষার অভিধান” (৯০ই) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৬ইং সালে ২৫শে মে তিনি মৃত্যু বরণ করেন ।

সুগত চাকমা

কবি সুগত চাকমা ১৯৫১ সালের ২৪শে মার্চ রাঙামাটিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রী নেন। তিনি ১৯৭৮ সালে রাঙামাটি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছেন । সত্তর দশকের প্রথম দিকে কবি সুগত চাকমা, চাকমা সাহিত্যে নব দিগন্তের সচনা করেন। বাংলা বর্ণমালায় চাকমা ভাষা ও সাহিত্য চর্চা করা দুঃসাধ্য হলেও তাঁর ঐকান্তিক ও নিরলস প্রচেষ্টায় চাকমা সাহিত্য বাংলা সাহিত্যে একটি স্থান করে নিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর (জুভাপ্রদ) সামনে থেকে চাকমা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, গল্পকার, গবেষক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর লেখা চাকমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমাজ, সংস্কৃতি ও ভাষা বিষয়ে বহু প্রবন্ধ পত্র পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে কাব্য রঙধঙ, চাঙমা বাংলা কধাতারা, চাকমা পরিচিতি, বাংলাদেশের উপজাতি, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় ভাষা, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি ও সংস্কৃতি, চাকমা রূপকথা অন্যতম । এবং অতি সম্প্রতি বই মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত “বাংলাদেশের উপজাতি ও আদিবাসীদের সমাজ ও সংস্কৃতি ও আচার ব্যবহার” উল্লেখযোগ্য।

সুহৃদ চাকমা

কবি সুহৃদ চাকমা ১৯৫৮ সালের ২০শে জুন খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা থানাধীন বাঘাইছড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বি,এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রী নেন। কর্মজীবনের প্রথমে তিনি বোয়ালখালী অনাথ আশ্রমে এবং মোনঘর অনাথ আশ্রমে শিক্ষকতা করেন। পরে মোনঘর শিশু সদনে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সমালোচক ছিলেন। চাকমা ভাষা ও সাহিত্যে তিনি একটি অনন্য নাম। চাকমা আধুনিক কবিতার গতানুগতিক ধারাকে পাল্টে দিতে তিনি নতুন ধারার সৃষ্টি করেন। চাকমা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে তাঁর লেখা মননশীল প্রবন্ধগুলো বিজ্ঞজনকে প্রবলভাবে আন্দোলিত করেছে । চাকমা ভাষা, সাহিত্য ও ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর অনেক প্রবন্ধ বাংলাদেশে এবং ভারতের ত্রিপুরার বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তার ‘বার্গী’ নামে একটি চাকমা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি প্রথমে জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর (জুভাপ্রদ) এবং পরে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বনামখ্যাত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংগঠন জুম ঈথেটিকস্ কাউন্সিল (জাক) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি জুম ঈথেটিকস্কা উন্সিলের প্রতিষ্ঠালগ্নে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ৮ই আগষ্ট মৃত্যু বরণ করেন।

সাংতোয়াজল পাংখোয়া (কার্বারী)

সাংতোয়াজল পাংখোয়া আনুমানিক ১৯৩০ সালে বর্তমান জুড়াছড়ি থানাধীন লোংজিয়াক পাড়াতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। অল্পশিক্ষিত হলে ও পাংখোয়া সমাজের জন্য তার অবদান খাটো করার নয়। শিক্ষা ও সংস্কৃতির জন্য তিনি নিরলস প্রচেষ্ঠা চালিয়ে গেছেন। ‘১৯৬৭ সালে নিজে উদ্যোগে তিনি নিজের গ্রাম লোংজিয়াক পাড়াতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজের থেকে বেতন পরিশোধ করতেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনা। তিনি একটি সাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব দিতেন। তাঁর দল ঢাকাতেও বহুবার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে ।


গ্রন্থনা: শিশির চাকমা/ এ, চাকমা/ অম্লান চাকমা/ শরৎ কুমার চাকমা
সূত্র: লামপ্রা/১৮, জুম ঈসথেটিক্স কাউন্সিল

Spread the love
RannyePhul

Explore Chakma Literature, Culture & History

https://rannyephul.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *