পাহাড়ে গুণীজন সম্মাননা ও একটি স্বর্ণালী বিকেল

গ্রীষ্মের বৃষ্টিস্নাত পড়ন্ত বিকেল, পাহাড়ের অগণিত গুণী মানুষদের পদচারণায় মুখর রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গন। সমাজের বিভিন্নক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হবে গুণীজনদের সম্মাননা। তাও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান প্রো বেটার লাইফ বাংলাদেশ প্রা. লি. থেকে। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক আয়োজনের প্রয়োজনে নয়, থেকে যায় হৃদয়ের গহীন থেকে শ্রদ্ধাবোধের বিশাল আকাশ। সমাজে তাঁদের অসীম অবদানগুলোর কথা এখানে বলে শেষ করা কোনভাবেই সম্ভব নয় হয়তোবা। কিন্তু সমাজের জন্য নিস্বার্থভাবে ছুটে চলা এই গুণীজনেরা বরাবরের মতোই শ্রদ্ধার পাত্র। তাই আমাদের রবি ঠাকুরও গেয়েছিলেন- “তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী, আমি অবাক্ হয়ে শুনি কেবল শুনি”। আসলে গুণী ব্যক্তি আমাদের নিকট সর্বদাই সম্মানীত ব্যক্তি। তাঁদের অনন্য প্রতিভা ও গুণগুলো আমাদের যেমন মুগ্ধ করে তেমনি করে সমৃদ্ধ। অসীম অনুপ্রেরণা যোগায় এগিয়ে যাওয়ার। তাঁরা আমাদের সমাজের যেন এক একটি আলোর প্রদীপ। (পাহাড়ে গুণীজন সম্মাননা)

দিনটি ছিল মে মাসের তেরো তারিখ রোজ শুক্রবার। সম্মাননা প্রদান করা হবে মোট সাত ক্যাটাগরিতে চারজন ব্যক্তিকে এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানকে। উক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগণ বিভিন্নভাবে আমাদের সমাজ তথা দেশের জন্য অনন্য অবদান রেখেছেন। শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হবে জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে, সাহিত্য ও প্রকাশনায় শ্রী প্রমোদ বিকাশ চাকমাকে, ক্রীড়ায় শ্রীমতি জয়া চাকমাকে, শিল্প ও সংস্কৃতিতে শ্রী রণজিৎ দেওয়ানকে, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে শ্রী বিভূতি চাকমাকে, সমাজসেবায় উন্মেষ (একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন)কে, উদ্যোক্তা বা ব্যবসা-বাণিজ্যে পার্বত্য যান-বাহন মালিক সমিতিকে। নুকু দি আর আমার উপর দায়িত্ব পড়ল অনুষ্ঠান সঞ্চালনার। যদিও আমি ভাল সঞ্চালক নই। তবুও দায়িত্ব পালনের চেষ্টায় ত্রুতি রাখতে চাইনি। অতঃপর মঞ্চে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করলেন রাঙ্গামাটির আপামর জনগণের প্রিয় নেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান শ্রী নিখিল কুমার চাকমা মহোদয়; সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মংসানু চৌধুরী মহোদয়; বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ এর প্রাক্তন সম্মানিত সদস্য মিজ নিরুপা দেওয়ান মহোদয়; রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা মহোদয়; পিবিএল এর পৃষ্ঠপোষক শ্রী মিশন চাকমা মহোদয় এবং আজকের গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করলেন প্রো বেটার লাইফ বাংলাদেশ প্রা. লি. এর সম্মানিত চেয়ারম্যান শ্রী রন জ্যোতি চাকমা মহোদয়। মঞ্চে উপবিষ্ট সকল অতিথিবৃন্দ ও সভাপতি মহোদয়কে উত্তরীয় পরিধান করিয়ে বরণ করে নেওয়া হলো। এছাড়াও দর্শক সারিতে এসে আসন গ্রহণ করলেন দুর-দুরান্ত থেকে আগত বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। যাঁরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বনামধন্য এবং সমাজে তাঁদের অবদান অপরিসীম।

শুরু হলো স্বাগত বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করলেন সবারই প্রিয়মূখ অত্র প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পাহাড়ের বাতিঘরখ্যাত মোনঘর এর নির্বাহী পরিচালক শ্রী অশোক কুমার চাকমা মহোদয়। তাঁর মূল্যবান বক্তব্য সত্যিই অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে আমাদেরকে। পুরো অনুষ্ঠানের তথা পিবিএলএর নিঁখুত বিবরণ যেন একটি জীবন্ত ইতিহাস। অতঃপর একে এক গুণীজনেরা মঞ্চে উঠে সম্মাননা গ্রহণ করলেন প্রধান অতিথির কাছ থেকে এবং প্রকাশ করলেন তাঁদের ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে চলার সংগ্রামের গল্প। শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল পার্বত্য অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাবারাং কল্যান সমিতিকে। জাবারাং কল্যান সমিতির পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করলেন এবং চমৎকার অনুভূতি প্রকাশ করলেন শ্রী বিনোদন ত্রিপুরা মহোদয়। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র তুলে ধরলেন নিঁখুতভাবে। এখানে জাবারাং কল্যান সমিতির পেছনের গল্পটি একটু বলতেই হয়। সমিতিটি একটি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাবারাং পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে এবং এখনও চলমান। তারা শিক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েই তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। বিশেষ করে ২০০৩ সালে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার সার্বিক চিত্র তুলে ধরার জন্য জাবারাং একটি গবেষণা কর্ম পরিচালনা করে। সেই গবেষণার সুপারিশের সূত্র ধরে ২০০৬ সাল থেকে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমটিবি এমএলই) প্রাক-প্রাথমিক থেকে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বেসরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক ও উপআনুষ্ঠানিক কর্ম গবেষণামূলক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। জাবারাং ২০০৮ সালে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমিত পরিসরে এমটিবি-এমএলই কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জাবারাং এই তিন ভাষায় দেড় শতাধিক পাঠ্য বই প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি গৃহিত হলে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার বিষয়টি এই সরকারি দলিলে পাকাপোক্তভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। তারই প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে সরকারিভাবে এমটিবি-এমএলই কর্মসূচি পরিচালনার উদ্যোগের সূত্রপাত ঘটে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালককে অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটিতেও জাবারাং-এর নির্বাহী পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিভিন্ন ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞ শেষে ২০১৭ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো উপকরণ প্রণয়ন, প্রকাশ ও বিতরণ করে। এভাবে ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণি, ২০১৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি ও ২০২০ সালে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করে মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। এখানে বলতে দ্বিধা নেই যে, আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা চালু করার ক্ষেত্রে জাবারাং কল্যাণ সমিতি জনমত গঠনে সক্ষম হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বহুভাষা ভিত্তিক মাতৃভাষায় শিক্ষা চালুর ব্যাপারে নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। আর এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্থাৎ মাতৃভাষার উপর গবেষণা ও সচেতনতা বৃদ্ধির স্বীকৃতি হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাকে অন্যান্য ৩ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে জাতীয় পর্যায়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক ২০২১’-এ ভূষিত করা হয়েছে।

ক্রীড়ায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল মিজ. জয়া চাকমাকে। গুণীজন জয়া চাকমা অনিবার্য কারণবশত আসতে না পারলেও জয়ার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করলেন এবং অনুভূতি প্রকাশ করলেন তাঁর বাবা শ্রী চিরঞ্জিৎ চাকমা মহোদয়। বললেন তাঁর মেয়ে ফিফার রেফারি হয়ে উঠার গল্প। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জয়ার এগিয়ে যাওয়ার গল্প। তবে স্নেহাস্পদ জয়াকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল। সে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোট বোন ছিল বিধায় প্রায়ই দেখা হতো কথা হতো এবং তার মধ্যে ফুটবলের প্রতি প্রেম ছিল বিশাল আকাশের মতো। প্রায় প্রত্যেকদিন অনুশীলণে নামতো। তখন থেকে তার ক্যারিয়ার ভাবনায় দেখেছিলাম খেলাধূলায় ক্যারিয়ার গড়ার।

জয়া ফিফার স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা রেফারী। বর্তমানে বিকেএসপিতে কর্মরত। একই সাথে সে মহিলা ফুটবল কোচ এবং রেফারী হিসেবেও কাজ করে। প্রায় ৪০টির অধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছে। ২০০৮ হতে ২০১২ পর্যন্ত জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছে। মূলত বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে নিয়মিত রেফারিং শুরু করে সে। এরপর শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও তাজিকিস্তানে একে একে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা পরিচালনার দায়িত্ব পায়। আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে তিনি ২০১৯ পর্যন্ত অন্তত ১০ বছর ধরে রেফারিং করেন। এরমধ্যে ২০১৫ সালে বার্লিনে আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসবে ১০টি ম্যাচ পরিচালনা করে। ২০১৯ সালে ঢাকায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের দুটি ম্যাচে রেফারিং করে। ভারতের সুব্রত কাপে, নেপাল-ভুটান এমনকি এশিয়ার বাইরে ইউরোপে গিয়েও দায়িত্ব পালন করেছেন জয়া। লেভেল ৩, ২ ও ১ কোর্স শেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের রেফারি হয়। পরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা রেফারি হওয়ার ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হয়। সে ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে ফিফার পঞ্চম নারী রেফারী হিসেবে যুক্ত হয়।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল পাহাড়ের অনন্য কন্ঠশিল্পী, সুরকার গীতিকার এক কথায় আধুনিক চাকমা গানের পুরোধা ব্যক্তিত্ব শ্রী রণজিৎ দেওয়ান মহোদয়কে। তিনি সম্মাননা স্মারকটি গ্রহণ করলেন প্রধান অতিথির নিকট থেকে এবং অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। এমনকি সুমধুর সুরে শোনালেন একটি চাকমা গান। রণজিৎ দেওয়ান আধুনিক চাকমা গানের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। গীতিকার ও সুরকার হিসেবে চাকমা গানকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। অসংখ্য জনপ্রিয় চাকমা গানের গ্রষ্টা তিনি। রণজিৎ দেওয়ান ১৯৫৩ সালের ৮ আগস্ট রাঙ্গামাটির রাঙ্গাপানি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে রাঙ্গামাটি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। তাঁর কর্মজীবনের শুরু ১৯৭৭ সালে থেকে জেলা গণসংযোগ দপ্তরে ভ্রাম্যমান পল্লীর গায়ক হিসাবে। তিনি ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের পাহাড়িকা অনুষ্ঠানেও কাজ করেন। পরে তিনি মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপন করছেন। ছাত্র জীবনে তিনি তৎকালীন পাহাড়ি ছাত্র সমিতির কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি একজন গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী। আদিবাসী চাকমাদের মধ্যে তিনিই প্রথম বেতার শিল্পী। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ বেতার ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবং ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বেতারে লোক সংগীত অনুষ্ঠানে সর্ব প্রথম চাকমা গান পরিবেশন করেন। এতদঅঞ্চলে চাকমা গান ও ধর্মীয় গানের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রদূত। তিনিই সর্বপ্রথম চাকমা গানের ক্যাসেট বের করেন। তাঁর চাকমা গানের ক্যাসেটের সংখ্যা ২টি এককসহ ৮টি এবং ধর্মীয় গানের ক্যাসেটের সংখ্যা ৪টি এককসহ ৭টি। তিনি গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠী ও গিরিঝংকার শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।  বর্তমানে তিনি সংগীত, নৃত্য ও চারুকলা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফিবেক একাডেমীর প্রধান উপদেষ্টা। তিনি চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী বিঝু নৃত্যের উদ্ভাবক। বিভিন্ন সময়ে বিটিভি, সিটিভি, এনটিভি ও একুশে টিভিতে সংগীত পরিবেশন করেছেন। ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির প্রেক্ষাপটে তাঁর রচিত ও সুরারোপিত ‘চেঙে-মেইনী-কাচালং’ গানটি দেশ-বিদেশে বহুল প্রশংসিত হয়েছে। এই অঞ্চলে ধর্মীয় চেতনার উন্মেষের ক্ষেত্রেও তাঁর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গুনী শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করেন। তাদের মধ্যে ফিবেক একাডেমী ও রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমী উল্লেখযোগ্য।

সমাজ সেবায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন উন্মেষকে। উন্মেষের সভাপতি শ্রী বিটন চাকমা ও সমাজসেবী শ্রী আশীষ চাকমা মহোদয় সম্মাননা স্মারকটি গ্রহণ করলেন এবং অনুভূতি প্রকাশ করলেন। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উন্মেয়ের এগিয়ে যাওয়ার গল্প শোনালেন অনুভূতি প্রকাশে। হাজারো মুমূর্ষু রোগীকে জরুরী মুহূর্তে রক্ত প্রদান করে জীবন বাঁচানোর গল্পও শোনালেন। এক কথায় অসাধারণ ছিল অনুভূতি।

মূলত পিছিয়ে পড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, সংষ্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি উন্মেষ সংগঠনটি কয়েকজন উদ্যোগী তরুণের হাত ধরে সৃষ্টি হয়। তবে এই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের রয়েছে অনেক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সেগুলোর মধ্যে মানব সেবার প্রথম পদক্ষেপ হল রক্তদান। উন্মেষের সদস্যরা জরুরী মুহূর্তে হাসপাতালে গিয়ে বিনামূল্যে রক্তদান করে থাকেন। শুধু নিজেরা নন, তাঁরা অন্যকেও স্বেচ্ছায় নিরাপদ রক্ত দানের জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে থাকে। বিগত সময়ে নানিয়ারচর, সাজেক, লংগদু এবং রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বসের সময় বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন তারা। উন্মেষ অসহায় এবং অস্বচ্ছল রোগীদের সুচিকিৎসার সহায়তার উদ্দেশ্যে তহবিল গঠন করে সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। এরই মধ্যে অগ্নিদগ্ধ সুমনা চাকমা, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত থুইচিং মারমা, ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত নিশান চাকমা, হার্ট অপারেশনের পারমি চাকমা, শ্রবণ প্রতিবন্ধী উজো চাকমা, জরায়ু অপারেশনে নমিতা চাকমা, পাইল্স অপারেশনের নরেশ চাকমা, কিডনী রোগী গৌরব দেওয়ান, ক্লোন ক্যান্সারের অর্থি চাকমা ও লিভার, খাদ্যনালী ও গলার ক্ষত রোগী প্রণাম চাকমাসহ দশ জনের অধিক রোগীকে চিকিৎসায় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন জনের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে ২২ জন শিক্ষার্থীকে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

বিগত ৯ বছর পূর্বে ১২ জন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া “উন্মেষ-এর” বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০০ এর অধিক। তার মধ্যে দাতা সদস্য ৪৬ জন।  এমনকি ৪০০ জনের মধ্যে ৩০০ জন সদস্যই উন্মেষের মাধ্যমে তাদের জীবনের প্রথম রক্ত দান করেছেন। নিয়মিত রক্ত দাতা আছেন ১,০০০ জনের অধিক। এ পর্যন্ত রক্ত দেওয়া হয়েছে ৬০০০ ব্যাগের অধিক। এছাড়াও কার্যক্রম শুধু রাঙ্গামাটি সীমাবদ্ধ থাকেনি যা খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রামে এবং ঢাকায়ও “উন্মেষের” কার্যক্রম চলমান আছে। রক্তদানের পাশাপাশি আন্তজার্তিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস, বেগম রোকেয়া দিবসে সারাদিন ব্যাপি ব্লাডগ্রুপিং ক্যাম্পেইন, ধর্মীয় কার‌্যাবলী এবং বিঝু কার‌্যাবলী ও তথ্য অধিকার দিবস উদ্যাপনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে “উন্মেষের” অংশগ্রহণ ছিল। রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচী পরিচালনা করা হয়েছে মোট ৯০ টি। রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়েছে ১১,০০০ জনের অধিক। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর শুরুতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শহরকে করোনা মুক্ত রাখতে উন্মেষের স্বেচ্ছাসেবীরা জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে রাঙ্গামাটি জেলার কল্যাণপুর, টিটিসি রোড ও মানিকছড়িতে ত্রিমুখী রাস্তায় করোনা প্রতিরোধক স্প্রে ছিটানোর কাজ বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়াও করোনা মহামারীতে লকডাউনের সময় তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকার ৩৪০০+ (উন্মেষ- পিবিএল যৌথ উদ্যোগে: ১৬০০+ এবং উন্মেষ- ব্র্যাক- রাজ পরিবার সমন্বয়ে: ১৮০০+) অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়। ডিসেম্বর/২০-জানুয়ারী/২১ সময়কালে ২১০ পরিবারের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের যুব উন্নয়ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উন্মেষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় মহোদয়ের নিকট হইতে “জয় বাংলা ইয়ুথ এওয়ার্ড-২০২০” পুরষ্কার অর্জন করে। স্বেচ্ছায় নিরাপদ রক্ত দানের জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে উন্মেষ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে থাকে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সকল ক্যাম্পেইন করা হয়ে থাকে সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল চাকমা ভাষার ফন্ট উন্নয়নে ও ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা শ্রী বিভুতি চাকমা মহোদয়কে। গুণীজন শ্রী বিভূতি চাকমা মহোদয় বিশেষ কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁর পক্ষে বড় ভাই সম্মাননা স্মারকটি গ্রহণ করলেন। তাঁর কাজের অবদানসমূহ: ১। চাঙমা আদর্শ ইউনিকোড ফন্ট (RibengUni) তৈরী, ২। Chakma Keyboard Plugin তৈরী, ৩। Universal Declaration of Human Rights সেকশনটি চাঙমা ভাষায় অনুবাদকরণে অবদান, ৪। Sascha Brawer, Craig Cornelius, Marek Z Jezorek এর সাথে চাকমা ভাষাকে Implementation এর জন্য নিরলস প্রচেষ্টায় অবদান, ৫। Chakma Maayyaa (U+11134) এর জন্য Unicode Consortium এ সংশোধনী প্রস্তাবে অবদান, ৬। চাকমা Script এ নতুন ০৩ (তিন)টি Character  সংযোজনের জন্য Unicode Consortium এ প্রস্তাবে অবদান, ৭। CLDR main data for Chakma যুক্তকরণে অবদান, ৮। CLDR Project এ Chakma Core data, Subdivision name, RBNF, BCP47, Keyboard, Annotations ইত্যাদি যুক্তকরণে অবদান, ৯। Noto Sans Chakma Font রিভিউতে অবদান, ১০। ফেসবুকে চাঙমা ভাষায় নিজের নাম লেখার অনুমতিতে অবদান, ১১। মাইক্রোসফট কর্তৃক এ-কার এর সাথে চাঙমা মাজ্যা চিহ্ন ব্যবহারের shaping অনুমোদনে অবদান, ১২। গুগল কর্তৃক চাঙমা কীবোর্ড ও ফন্ট ব্যবহারের অনুমোদনে অবদান, ১৩। Proposal to improve Chakma Alt name list in Chakma Block in Unicode এ অবদান, ১৪। Celebrating Indigenous Languages Around the World এ অবদান, ১৫। Presentation Synopsis at the LT4ALL conference at the UNESCO HQ এ চাঙমা ভাষা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি করণে অবদান, ১৬। Google এর Gboard এ Chakma Keyboard যুক্তকরণে অবদান, ১৭। Facebook added Chakma Regional Setting Format for Dates, Times, and numbers যুক্তকরণে অবদান, ১৮। Chakma Number Format Tester in CLDR-app এ চাঙমা যুক্ত করণে অবদান, ১৯। চাঙমা ভাষা উন্নয়নে Interview to ABC news in Australia-কে অবগত করণে অবদান, ২০। Easy Chakma Keyboard তৈরী- চাকমা ভাষা উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশনে বিশেষ অবদান রেখেছে।

উদ্যোক্তা বা ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতি কে। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্মাননা স্মারকটি গ্রহণ করলেন এবং অনুভূতি ব্যক্ত করলেন শ্রী নির্নিমেষ দেওয়ান মহোদয়। মূলত ১৬-০৬-২০০০ খ্রিঃ পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতির যাত্রা শুরু। এটি একটি নিবন্ধনভুক্ত সমিতি। ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর অস্থির পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির পরিবেশ তৈরী হয়। পাহাড়ে সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এখানে আর্থ সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে থাকে। স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় ব্যবসার পরিবেশও সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় পাহাড়িদের কিছু ব্যবসায়ী পরিবহন ব্যবসার দিকে আগ্রহী হয়ে পড়েন। একটি দুইটি করে তাঁরা গাড়ি কেনা শুরু করে। এই গাড়ী মালিকদের একত্রিত করার লক্ষ্য নিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালাতে জন্ম নেয় এ যান-বাহন মালিক সমিতি। এ সমিতি গঠনের পর থেকে খাগড়াছড়ির পরিবহন জগতে এক আলোড়ন তৈরী হয়। অনেক সমস্যা মোকাবেলা করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এ সমিতিকে এগুতে হয়। এ সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে সাধ্যমত যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক পাহাড়ি পরিবহন ব্যবসায় এগিয়ে আসে, যাদের পূর্বের কোন ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিলো না। এ সমিতি প্রতিষ্ঠার ফলে অনেক পাহাড়ি ড্রাইভারের পেশা গ্রহণ করেছে।, যা অভূতপূর্ব। এটাকে সমাজ বিপ্লবও বলা যায়। এ যান বাহন সমিতিতে ১৪ জন কর্মচারী রয়েছেন। এ সমিতিতে ১৭০ জন ড্রাইভারের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অনেক পরিবারের আয়ের পথ সুগম হয়েছে। এছাড়া আরো ১৫০ জন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ সমিতির সঙ্গে যুক্ত। কাজেই পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতির সমাজে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। শুধু যাত্রী সেবা নয়, অনেক যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করেছে।

সাহিত্য ও প্রকাশনায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান হয়েছিল লেখক ও সাহিত্যিক শ্রী প্রমোদ বিকাশ চাকমা মহোদয়কে। অনিবার্য কারণবশতঃ তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৪০ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজীতে এমএ। এই গুণী ব্যাক্তি শত প্রতিকূলতা সত্বেও লেখনী চালিয়ে যাচ্ছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পটভূমিতে রচিত তাঁর সাহিত্য ভান্ডার। প্রায় ২৫টির অধিক বই এর রচয়িতা তিনি। চাকমা উপন্যাস, নাটিকা, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ, কবিতা, সম্পাদনা নানান বৈচিত্র্যে তিনি পার্বত্য আদিবাসী সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

অতঃপর বক্তব্য রাখলেন সম্মানিত বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং মাননীয় প্রধান অতিথি। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ অত্যন্ত চমৎকারভাবে তাঁদের বক্তব্যগুলো উপস্থাপন করেন। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন পিবিএলকে। সর্বশেষ বক্তব্যটি প্রদান করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রো বেটার লাইফ বাংলাদেশ প্রা লি এর সম্মানিত চেয়ারম্যান মি রন জ্যোতি চাকমা মহোদয়। তিনি পিবিএলএর মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একটি অসাধারণ অনুষ্ঠান ‘গুণীজন সম্মাননা ২০২২’ এর।

এখানে উল্লেখ্য যে, গুণীজন মনোনয়নের জন্য একটি সিলেকশন কমিটি করা হয়েছিল। কমিটিতে ছিলেন- প্রফেসর (অবঃ) মিঃ মংসানু চৌধুরী মহোদয়, মিজ নিরূপা দেওয়ান মহোদয়, মিঃ অরুনেন্দু ত্রিপুরা মহোদয়, মিজ লীনা লুসাই মহোদয়, মিঃ মিশন চাকমা মহোদয় ও মিঃ রণ জ্যোতি চাকমা মহোদয়। আর অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য একটি অর্গানাইজিং কমিটিতে ছিলেন মিঃ রন জ্যোতি চাকমা মহোদয়, মিঃ সুশোভন চাকমা মহোদয়, মিজ নুকু চাকমা মহোদয় ও মিজ ঝুমালিয়া চাকমা মহোদয়। এছাড়াও পুরো অনুষ্ঠানটিকে সাফলমন্ডিত করার জন্য নিরলসভাবে মেধা ও শ্রম দিয়েছেন পিবিএল এর সকল সদস্যবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করতেই হয়। যেমন- মি. সপ্তর্ষী দেওয়ান মহোদয়, মি. সুশোভন চাকমা মহোদয়, মি. আব্দুল কাদের মহোদয়, মিসেস. ঝুমালিয়া চাকমা মহোদয়, মিসেস নুকু চাকমা মহোদয়, মিসেস. কল্যানী চাকমা মহোদয়, মিজ. রাজর্ষী চাকমা মহোদয়সহ আরো অনেকেই।

পরিশেষে বলব, গুণীজনদের প্রতিভাকে নতুন প্রজন্মের কাছে এবং সমাজের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস পিবিএল এর, যাতে করে নতুন প্রজন্ম এবং আগামী দিনের যারা দেশের কর্নধার হবেন, যারা সমাজ ও দেশকে পরিচালনা করবেন তারা যেন নতুন করে সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণের মতো সমাজে অবদান রাখতে উৎসাহিত হন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের একটি উক্তি বহু মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। সেটি হল-“স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।” তেমনি প্রো বেটার লাইফ বাংলাদেশ প্রা লি প্রতিষ্ঠানটিও মানুষের সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় বুনে একটি সুন্দর স্বপ্ন। মূলত মানুষের উন্নত স্বাস্থ্য, আর্থিক স্বাচ্ছ্যন্দ এবং সুখ অর্জনের সাথে একটি উন্নত জীবন তথা একটি উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটি হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলছে নতুন স্বপ্নকে আলিঙ্গন করার নিদারুন প্রচেষ্টায়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার স্বপ্নবাজ কিছু মানুষের সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানটি স্বপ্ন দেখে একটি সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তথা একটি সুন্দর পৃথিবী।

লেখক: মুকুল কান্তি ত্রিপুরা, প্রভাষক, ইতিহাস বিভাগ, রাঙামাটি পাবলিক কলেজ, রাঙামাটি।

তথ্যসূত্র: তনাওতা (বিঝু-২০২২), বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি।

Spread the love
RannyePhul

Explore Chakma Literature, Culture & History

https://rannyephul.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *