চাকমা ব্যাকরণ

পদক্রম (Colloction of parts of Speech): [ চাকমা ব্যাকরণ ]

বিশেষ্য পদ (Noun):
১. বাক্যে প্রথমে অধিকরণ কারক ও পরে কর্তা: ৎয্হারত বাঘ থাহ্’ন্ (জঙ্গলে বাঘ থাকে)।
২. অধিকরণ কারক কর্তার পরে এবং ক্রিয়ার পূর্বে : হাঙারা গাদত থাহ্’ন্ (কাঁকড়া গর্তে থাকে)।
৩. অপাদান হতে উৎপন্ন পদার্থের পূর্বে বসে : মেঘত্তুন ৎয্হর হ্’য়্ (মেঘ হতে বৃষ্টি হয়)।
৪. সম্বন্ধ পদ, যার সাথে সম্বন্ধ তার পূর্বে : ফেলারাম ৎসাঙমার ৎযুম (উদ্দেশ্য) (ফেলারাম চাকমার জুম)। এ মালমুরাবুয়া ভেলদীবাবর (বিধেয়) (এই বড় রুইটি ভেলদী বাপের)।
৫. কর্তা ক্রিয়ার পূর্বে : ফেলাবী এল। তারা সিঙেই (চাকমা বাদ্যযন্ত্র) বেইয়োন (বাজিয়েছে)।
৬. অনুজ্ঞায় কর্তা উহ্য থাকে : আয়। যাগোই (চলে যা)।
৭.প্রশ্ন সূচনা করলে কর্তা ক্রিয়ার পূর্বে : তে গেল’ দ’ ? (সে গেলো তো?)। দৃঢ়তা, বিস্ময় সূচনা কররে কর্তা ক্রিয়ার পরে : গাল মাদঙর মুই? (মিথ্যা বলছি আমি?) “কমলে ৎেযদা বেঙ ধোরি বান্যে পাল্লাত মাবি পারিবোং! অন্য মানুৎস ৎযধা হোইন্যে কধক উন্নতি গত্তন! রোইয়্যেই আমি!”- ভগাবান চন্দ্র চাকমার গল্প : আমা ফাৎথা। (কবে জ্যান্ত ব্যাঙ ধরে তুচ্ছ পাল্লায় মাপতে পারবো! অন্য মানুষ একত্রিত হযে কত উন্নতি করছে! রয়েছি আমরা!)
৮. কর্ম কর্তার পরে ক্রিয়ার পূর্বে : মুই মামরা (একপ্রকার জুম ফল) হেলুং। জোর বুঝালে কর্ম কর্তার পূর্বে, কখনো ক্রিয়ার পরে : ‘তে-দ সিন্ন্যা সুবে সুবে কোই পাত্ত, মানেক দা কোৎসপাং।’- ঠাকুর বিমল মমেন চাকমার গল্প : ‘হুৎয্ বারাদেই আন্দার’ (সে-তো সেদিনই বলতে পারত— মানিক দা আমি তোমাকে ভালোবাসি।”)
৯. করণ কারক কর্মের পূর্বে : তাল্লোই ওতারে ত্হ [ সে সহ ( দ্বারা) ওকে রাখো]।
১০. সম্বোধন পদ বাক্যের পূর্বে : ‘ভগবান্ মাপ গোরিৎস্, হেমা ৎসাঙর এই বারবো স্বভাব আর মর মনত ন থেব- তড়িৎ কান্তি চাকমা : ‘আন্দারত্তুন পহর’। (ভগবান মাফ করো ক্ষমা চাচ্ছি, এই বারের স্বভাব আমার মনে থাকবে না)।
১১. সম্প্রদান কারক কর্মের পূর্বে : ফলনীমা, বোইরাক্যারে (বৈরাগীকে) দ্বি দ ৎেসাল দে।
১২. সমাপিকা ক্রিয়াপদ বাক্যের শেষে : ‘সক্কেন রানৎযুনি কধানী ভাবদে ভাবদে হয় পল্লা হেঙগরঙ’ নোনেয়ে সুর ত্হামি যিয়্যে’।— সুহৃদ চাকমা : ‘ কোচপানা নাঙ পত্তাপত্তি’। (তখন রানজুনির কথাও ভাবতে ভাবতে কতোবার হেঙগরঙ (চাকমা বাদ্যযন্ত্র) এর মিষ্টি মধুর নির্লজ্জ সুর থেমে গেছে।)
১৩. কয়েকটি পদ সংযোজক অব্যয় ‘ও’ অথবা ‘এবং’ দ্বারা সংযুক্ত হলে সর্বশেষ পদের পূর্বে ‘আ’ এবং শেষে ‘লোই’ বসে : পুনংৎসানলোই রাঙাবী আ’ সিত্তি ইধু এসেসান। এরূপস্থলে কারক বিভক্তি পদের সহিত ব্যবহৃত হয় : দেঙালোই নিলকধন আৎ নিলুপুদিরে দাগি আন।
১৪. সংখ্যাবাচক বিশেষণের সহিত বিশেষ্য বহুবচনের কোন চিহ্ন থাকে না : বাঙাল ৎযাঙাল মিলি ন তিন্নো বাঙাল বদা ন বাদন।

সর্বনাম (Pronoun):
১. কোনও ক্রিয়ার কর্তা উত্তম, মধ্যম ও প্রথম পুরুষ হলে ক্রিয়ার সাথে উত্তম পুরুষের সাথে যুক্ত উত্তম পুরুষ কোন ক্রিয়ার কর্তা হলে ক্রিয়াটি মধ্যম পুরুষের সাথে যুক্ত হবে চাকমা ভাষায় এমন কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই।
তুই মুই তে রান্যা বেরা গেলং। তাল্লোই মুই এ কধান কলং।
২. তুচ্ছার্থ বা মান্যার্থ যে কোন পুরুষ কর্তা হলেও ক্রিয়া মান্যার্থের সাথে যুক্ত হয় না : কত্তালিলোই তারা (মান্যার্থে ওনারা) রাঙামাত্ত্যাত যেবাক। তারাল্লোই আমি সুগত চাকমার “নীল মোনর স্ববন” নাদক্কো (নাটকটি) স্বর্ণশীলা’ ৭৯ত ৎেসলং। তার লঘে তুই পেৎযাত্তল (পেচারত্তল) যেদে? ম’ লেক ধরল্লে তুই কন উদো পেদে নয়। তা’ লঘে তুমি (আপনি) ভাদ হেদা?

বিশেষণ (Adjective) :
১. বিশেষণ সাধারণ বিশেষ্যের পূর্বে : অমা কাত্তোল (বড়ো কাঠাল), লিত্তিংগুরো, হেল ফুল।
২. বিধেয় বিশেষণ বিশেষ্যের পূর্বে : সত্রং ফুলুন রাঙা নাকসা ফুলুন তুম্বাচ।
৩. বিশেষ্য স্ত্রী লিঙ্গ হলেও বিশেষণও স্ত্রী লিঙ্গ বা বিশেষ্যও স্ত্রী লিঙ্ হলে তার বিধেয় বিশেষণ স্ত্রী লিঙ্ চাকমাতে হয না ঃ দোল মোক (সুন্দরী স্ত্রী), লক্কী মিলা (লক্ষ্মী মেয়ে)।
৪. সর্বনাম বিশেষণের পরে : মুই বেনালত, ৎসলাবাবে সুখী ।
৪. সর্বনাম দ্বারা স্ত্রী জাতি বুঝালে তার বিশেষণের স্ত্রীলিঙ্গ চাকমাতে হয় না : “কালেসুরী কলদে,আহ মুই কি দুখী।” (কালেসুরী বারমাসী)
৫. বিশেষণে বিশেষ্যের বচন ও কারক বিভক্তি চাকমাতে হয় না : দোল মিলাবুয়ারে রিনি ৎসা।
৭. সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক বিশেষণ একাকী বিশেষ্যের সহিত ব্যবহৃত হতে পারে : তারা দ্বি ভেই (তারা দু’ভাই)।

ক্রিয়া বিশেষণ (Adverb):
১. ক্রিয়া বিশেষণ কর্ম ও ক্রিয়ার পূর্বে : মুই লারে লারে ভাদ হাং (আমি আস্তে আস্তে ভাত খাই)।
২. ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ তার পূর্বে : রাধামনে ধনপুদিরে কোত্যোলি গোরি কল।
৩. কোনও বাক্যে ‘যুদি’ (যদি) থাকলে, সহযোগী শব্দ (Co-relative) রূপে ‘তে’, ‘মাত্তর’, ‘সালে’, ‘এনে’ ব্যবহৃত হয় : তে যুদি ন এযে সালে/মাত্তর মুই ফগদাং বার গোরি দিম।
৪. কতগুলো সহযোগী শব্দ : যেক্কে-সেক্কে’, ‘যেধক-সেধক’, ‘যেযান্যা-সেযান্যা’, ‘হয়- নয়’ ইত্যাদি।

ক্রিয়া (Verb) :
১. সমাপিকা ক্রিয়া বাক্যের শেষে : ‘বানা সে মিথ্যাল্যা সব্দউনই নয়, সেবারা চাকমা ভাসাত এত্য বেয়াল ‘আরাং’ সব্দ তোগেই পেই যিউনোর ‘ধুৎযোমুল’ ( root base) আর্য ভাষাত নেই।’- নিরজ্ঞন চাকমার প্রবন্ধ : চাকমা ভাষার উৎপদি পৈদ্যানে। (শুধুই যে মিশ্র শব্দ ভান্ডারই নয়, এর  বাইরে চাকমা ভাষায় এখনো অসংখ্য ‘আসল’ শব্দ খুঁজে পাই যেগুলোর ধাতুমূল আর্যভাষায় নেই)।
২. অসমাপিকা ক্রিয়া সমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে : ‘মনমুরোত মালা তা’ রাঙা তুত্তোলোই কধা হর হাত্যি হাত্যি। নগান যার তা’ গঙে তে।’- দেওয়ান সুশীল কান্তি চাকমার গল্প : ‘মনত্তুন দ ন যায় মর সেই অক্কান মু।’ (মনের গভীরে মালা তার অভিমানে মান ভাঙ্গা রাঙা ঠোঁটেই কথা বলছে, হেসে হেসে। নৌকাটা যাচ্ছে তার গতিতে।)

জটিল বাক্য ( Complex Sentence ) :
বিশেষ্য স্থানীয় অধীন খন্ডবাক্য সমগ্র বাক্যের প্রথমেও বসে, শেষেও বসে, এটা নির্ভর করে বাক্যের উপর: ‘ভাবং, এ,হেত বোৎযস্যে মোইল্যারাম’ ইল ন হোইয়্যে গাভুরান, ৎিযংহানী কধা। যে পররে পরমেশ্বরী সদাগৎয্যা বর মাগি দে, হালিক্ নিৎেয কনদিন্ দোলে সে বর ন পেল। অন্যের সুখ-সান্দি, ঘর-দোর, পো-ৎসালোই নিৎেযা ইল ন হোইয়্যে হাত্তৎসসান, হাৎযায়ান্, সুক্কান ৎসুরগোরি মিদ্যায়। সেয়ান এক্কান ন-ৎযান্যে, ন-ৎসিন্ন্যা, নবুৎেয্যা হাৎযি, হাৎযা, হাত্তস, হলে সুঘো হলে দুঘোর্, হে পরমেশ্বরী, হে হুক্যাঙ্গ্যা।’- সুহৃদ চাকমা : ‘ৎিযংহানী।’

[ ভাবি, এ ষাট বছর বয়স্ক মৈল্যারামের তৃপ্ত যৌবন, জীবনের কথা। যে পরের জন্য পরমেশ্বরী সওদাগরের (চাকমাদের বিবাহ দেব-দেবী) আর্শীবাদ প্রার্থনা করে, কিন্তু সে কোনদিন পূর্ণভাবে সে আশীর্বাদ পেলো না। অন্যের সুখ-শান্তি, ঘর-সংসার, সন্তান-সন্ততি নিয়ে নিজের অতুপ্ত আশা, ইচ্ছা, সুখ গোপনে মিটায়। সেটা না-জানা, না-চেনা, না-বোঝা হাসি, আশা-আকাঙ্খা, হয়তো সুখের হয়তো দুখের; হে পরমেশ্বরী হে হুক্যাঙ্গ্যা (চাকমাদের বিবাহের দেবতা। এ দেবতা ‘ঝরা দেবতা’দের অন্তর্ভূক্ত; এ দেবতা পূজায় শুধু একটি ডিম পেয়ে থাকে। এর উপস্থিতি চাকমাদের ‘থানমানা’ বা গাঙপূজায়ও দেখা যায়।) ]

২. নাম-বিশেষণ স্থানীয় অধীন খন্ডবাক্য ও ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় অধীন খন্ডবাক্য প্রথমে, স্বাধীন খন্ডবাক্যের পূর্বে : ‘সাগরয্যা ইস্কুল্যা পো যাদন, ক্য ক্য নাক-মু হরলা, ক্য ক্য বিরবিত্‍স্যা, শ্রাবস্তী বেক দেগের আ’ সুরন গরের পরাশবাবুর কধানী।’-জ্ঞানেন্দু চাকমা : ‘সুরন।’

(অনেকগুলো ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, কারো কারো নাক-মুখ অপরিস্কার, কারো কারো পরিস্কার, শ্রাবস্তী সব দেখছে আর স্মরণ করছে পরাশবাবুর কথাগুলো)।’ কাই যেইন্যেয় হেতগোরি পুৎেযার গোল্লুং, “ তুই মালা নি নাও?”- ঠাকুর বিমর মমেন চাকমা : ‘দৎয্ বৎযর ৎেযরে’ । (কাছে গিযে অনাবশ্যকভাবে জিজ্ঞাস করলাম, “তুই মালা না-কি?”)

৩. নির্দেশক ভাব ভিন্ন অন্যভাবের ক্রিয়া বুঝালে (যেমন উক্তিতে ‘যুদি’ (যদি), ‘য্যেন (যেন), ‘য্যানে’ (যাতে) প্রভৃতি পদ থাকলে কিংবা এরূপ পদের অর্থ প্রচ্ছন্ন থাকলে অথবা ক্রিয়াতে ‘ইচ্ছা’, ‘প্রার্থনা’, ভাবের দ্যোতনা থাকলে ‘ন’ (না) সেই সমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে বসে  ‘আ’ নলে গম্ ত্যামেই পেইয়োস সুখী হবে গোরি অভিনন্দারে সান্ত্বনা ন-দিনেই অসহায় ন-ভাবি তারে হি ইরুগর অবস্থাতুন বাত্যেই ন পাল্লুঙুন?’- ইন্দ্রনীল; ‘রোদে ৎসাবায়।’)

৪. সমাপিকা ‘বলে’, ‘বলিয়া’ উদ্দেশ্যবাচক বা কারণসূচক অধীন খন্ডবাক্য ও স্বাধীন খন্ডবাক্যের মধ্যে বসে যাজকের কাজ করে : ‘সে অক্তত ভিলে তেন্যা ৎেসাক্কুন বাঘ ৎসোঘত্তন বেৎস্ ৎযলং ৎযলং, রোগোনি। পেদ-ভুগে ত্যিংহানীর মেয়ে সারগোরি বাঘমাধাত তাক দিলো। আ’ হি? সমায্যাউনে বারগোরি আদামত লঙেলাক। সিধু বাত্যহ সিধু তেহলাক সে হালে।- সুহৃদ চাকমা: সাগরত ত্যহর। সে সময় তার চোখ দুটো বাঘের চোখের চেয়ে বেশী জ্বলছিল, রক্তাক্ত। পেটের ক্ষিদেয় জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাঘের মাথায় লাফ দিলো, আর কি? সহযাত্রীরা কাঁধে করে গ্রামে আনলো তাকে। যেখানকার বাঁশ সেখানে থাকলো সেভাবে।) ‘এ অবস্থাত তে মনে মনে তিহগ গল্প দে ভিলে যে-হদাবুয়াই তারে বানেয়্যে সে হদাবুয়া হদু যেব।’- ভাগ্যচন্দ্র চাকমা : ‘পরভালেত্যের পরভালেদি।’ [ এ অবস্থায় সে মনে মনে ঠিক করলো, যে খোদাটা (ঈশ্বর) তাকে বানিয়েছে সে তারই কাছে যাবে। ‘হুওর হবং বাণ্যে মেল্‌বোর্ণ। বেন্যে রাঙা সিদেয়ে ৎসদক ঘরানত হারা হ্য়। আমা হাত্তস পুনং ৎসানে সমায্যেলোই বেডমিন্টন হারা হোই বানা গীটারত হাদ বাত্যেল; তুঙে মা রানা কপি বানের ভিলি বানা হিটারত আগুন জ্বালেল সে অক্তত ম ডিপার্টমেন্টর একত্যন নিগ্রো ছাত্র রবার্ট ইয়ং এল লেঙে হোগে হোগে।’- সুহৃদ চাকমা : ‘এনট্রোপলজি’।

(কুয়াশার ঘোমটা দেয়া মেলবোর্ণ। সকালের রাঙা মিষ্টি আলো ঘরে খেলা করছে। আমাদের আশার পুনংচান তার সাথীদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলা শেষ করে এইমাত্র গীটারে হাত দিচ্ছে; খুকুর মা (আমার স্ত্রী) রীণা কফি তৈরী করবে বলে হিটারে আগন জ্বলালো আর সে সময়েই আমার ডিপার্টমেন্টের একজন নিগ্রো ছাত্র রবার্ট ইয়ং এলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, দম টেনে
টেনে।)

[পদক্রমের এ বৈশিষ্ট্যগুলো ড.সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় ও শ্রী অনিলকুমার কাঞ্জিলালবাবুর ‘মধ্য বাংলা ব্যাকরণ’ (পুন. মু. এপ্রিল ১৯৭৭, বাক-সাহিত্য প্রাঃ লিঃ, কলিকাতা-১৯) এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সাহবের ‘বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ (২য় সংখ্যা, ১৩৭৭, প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরী, ঢাকা) বই অনুসারে]

লিঙ্গ (Gender) :
মূলতঃ চাকমা ভাষাতে Natural Sex (জাতিলিঙ) এবং grammatical gender (বৈয়াকরণ বা প্রত্যয়ঘটিতলিঙ) দুটোই পাওয়া যায়।
পুংলিঙ-স্ত্রীলিঙ : স° পিতা-মাতা-বাবা-মামা।
স*ভ্রাতা-ভগ্নী-চা° ‘সাত্‌ ভেই সাত্‌ বোন লাক্ পেদুং;’ (শিবচরণ চাকমা : গোজেন লামা)।
স*স্বামী-স্ত্রী-চা’ ‘নেগে মোগে ফারক হলাক বিস্সেস ন হবার। ‘মুকুন্দ চাকমা।’
ই-প্রত্যয় যোগে : ‘নেই এস্যো রাধামন, সেনদ্যায় নেই ধনপুদি ।’- ফেলাযেয়্যে চাকমা।

কাবিলবানা—’নুয়া কাবিলবানি ফিরি এব’ এ বামত্ আর একবার।’-বিমল মমেন চাকমা। রীণা (বিপত্নীক)-রাণিবিদি, সিঙেল (পুরুষ হরিণ) -তুলি। বী- প্রত্যয় ও স্ত্রীবাচক : বাঙাল মরদ (বাঙালী পুরুষ)-

‘কমলে হারেলে তুই
বদা বদা ৎেসাগী নুদী ৎেসাক, নুদী হাৎযি হুৎযি হুৎযি নুদী নুদী
রিনিৎচানাগান ?
ৎযুম্মবী কধেই ৎসাং এধক হেঙেরী হলে,
পোৎযাগে আ’ ধগে ধাগে, কধা কধে বাঙালমিলা সান?
– ফেলাযেয়ে চাকমা

(কবে হারালে তুমি
ডিমের মতো ঢঙের চোখ, ঢঙের হাসির হাসি কচি কচি
ঢঙে ঢঙে দৃষ্টি,
জুম্মবী বলতো, এতো কেমন করে হলে,
পোশাকে আর রূপেগুণে, কথায় বাঙালী ললনার মতো?)

মানেকধন-মানেকবি, এঙেলাহুগুর-এঙোলীহুগুর (মাদীকুকুর), দামরা গুরু-পারী গুরু (গাভী)।

উভয়লিঙ : পো-ৎসহা (সন্তান), সিত্তি ৎিসত্তি।
‘হয়দ মানুৎস নয়, হয়দ গাঙৎিসল
নয়দ বার্গীর (পেঘোর) ভেৎস্ ধোরি’
বরগাঙ ৎেসঙী কাৎযলঙর পারে পারে।’-সুগত চাকমা।

ক্লীবলিঙ : ‘পল্লাপোল্লি মুর সেরে এক্কান দেৎয্ মুই কোৎসপাং।’-নিরঞ্জন চাকমা।
‘ৎযুম্মবী ৎযুমোত্ কবরক ধান কাবের মাধাত্ হবং বানি রোদমায়।’- সুহৃদ চাকমা ।

‘সেনদ্যায় কং ত্বরে ন কানিৎস্ তান্যাবী গাভুরী ধক্,
ন হাৎিযস্ সান্দবীর দুঘ হাৎিযয়ান;
ৎসুলানত গুৎযা ফুল ধরমর গোরি পিন্ পরাণর
আওত্যর ত্যিহগাফুল ৎসাবগীর নুয়া পিনোনান
হাৎযি হাৎযি দোলেদালে বান তুই রাঙা হাদিয়ান।’– ফেলাযিয়ে চাকমা

(তাই তোকে বলি, কেঁদোনা যুবতী তান্যাবীর মতো
হেসোনা চান্দবীর দুঃখের হাসিটা,
কবরীতে ফুল সাজাও, শক্ত করে পরো পরাণের
সুখের ঝিঙেফুল-ছাপা নোতুন পিনোনটা
হেসে হেসে মায়াময় করে বাঁধো লাল খাদিটা )

বচন (Number) :
একবচন : তুই (তুমি), মুই (আমি), তে (সে)।
বহুবচন : তুমি (তোমরা), আমি (আমরা), তারা (তা’রা)।
‘বেক’, ‘সগল’, ‘সগল্‌লক’, ‘লক’, ‘আনি’, ‘উন’ প্রভৃতি চাকমা ভাষার বহুবচনের চিহ্ন :
‘পিদে গোরি তাক্কোংগে, জানং ন জানং লেক্কোংগে।।
যুগি কাবর সাব গোৰ্য্যে, ম’ দুজ গুণ বাব ভেই সগলক মাব গোৰ্য্যে৷
বত্যে দুরিলোই ক বানং, অল্প বয়স্যে মুই ন জানং৷’-সাদেংগিরি উপখ্যানে কবির ভণিতা।

‘স্ববনানি বেক হেল হুয়ানি বেক পহন।’ — দীপংকর শ্রীজ্ঞান চাকমা
(স্বপনেরা সব নীল, শিশিরেরা দুঃখময়)

পুরুষ (Person) :
উত্তম পুরুষ : ম’, মুই, আমি ।
মধ্যম পুরুষ : ত’, তুই, তুমি।
প্রথম পুরষ : তে, তারা, ৎসলাবাব, ফলবীজি।

উপসর্গ (Perfixes or Proposition) :
‘অ’-প্রধানতঃ না অর্থে : অকধা (যা কথা নয়, গালিগালাজ), অসিভিল (যা সভ্য নয়, মূর্খ), অযমর ইত্যাদি।
‘আ’-প্রধানতঃ না, অভাব অর্থে : আনুনি (নুনের অভাব), আআন্যা (যা আনা হয়নি), আগাত্ত্যে (সচেতনতার অভাব), আৎসহক্যে (যা ধোলাই করা হয়নি) ইত্যাদি।
‘নি’, ‘বে’, ‘না’-প্রধানতঃ না, মন্দ, বিহিন, ভিন্ন অর্থে ঃ নামঞ্জুর (নিমরাজী), বেৎযুর (জোড়া নয়), বেদম (ভুল বোকা), বেরাতখ্যা (রাজ্যবিহীন), বেধক (অমিল, অসুন্দর), নিলোত্য (লাজহীন), নাহাঞ্জর (দৃষ্টি দেয়া যায় না এমন) ইত্যাদি।

অনুসর্গ (Postposition) :
‘ত্তুন’, ‘দি’, ‘ইন্দি’, ‘ত্যে, ‘লাই’, ‘লোই’ প্রত্যয় যোগে : বিৎযয়গিরিত্তুন (বিজয়গিরি হতে), কালিন্দিরাণিত্যে [ কালিন্দি রানির (চাকমা রাণী) জন্যে] ‘

কালা মোন, ৎযার নিসুলী
মেয়্যার তারুম, কাদা ফুলবন্ পার হোই যেবাক
হাৎযি হাৎযি, সেক্কে মুৎযুঙেদি পোরি ত্হেব
হেল্ সর্গকানন্ ॥’—প্রান্তিকা চাকমা।
‘Dhanpudi Hall-র বিউটিকুইন তান্যাবী মর রীণা,

চেহারান কধ গেলে ত’ চেরাগ চেরাগ। এক্কা মেয়ে লাগিলো মর। পুজার গোরি জানিলুং আই-পাইঅর করম্ । জুমোত আইপাই । পাপি ন-হন, সেনত্যে নাহি গাভুরী তা’ লাঙ্যালাই নিত্তো হানে। নাঙান তার লাপু চাংমাই । ‘কাই যেই হোলুং, হি হোইয়্যে ন্যে না? ম’ কধা ন বুঝি রাগ গোরি তে কল- তন্ তোং করণ আ-রি (Tan tong karn ah-rai? কি চাচ?) পুরো থাইর কধা। কোলুং আহ্ কিত্যে কানর বোন? কল- চুন মাই ক্যও চাই (chum mai kao chai. ন বুঝোং)। তারা কধাদি মুই ভাদ, পানি, তোন, হাবর হি কয় জানিদুং। কোলুং : নাম (nam পানি)। তে কল- আ-রাই (A-Rai? কি?) নাম। হাঝি হাঝি পানি আনি দিলো গাভুরী; কোলুং; খোব খোউন (Khob-khun, thank you, ধন্যবাদ)।’-সুহৃদ চাকমা : বাৰ্গী ১৯৬৬।

(ধনপুদি হলের রাণীর মতো সুন্দরী তান্যাবী আমার রীণা, চেহারাটা বলতে ঠিক তোমার আদলে। একটু মায়া লাগলো আমার। জিজ্ঞেস করে জানলাম পিরীতির রীতি, পিরীতির কম্ম। জুমে মন দেয়া নেয়া। মিলন হয়নি, তাই বিরহিনী যুবতী প্রেমিকের জন্য প্রায়ই কাঁদে। নাম তার লাপু চাংমাই। কাছে গিয়ে বল্লামঃ কিছু হয়েছে নাকি? আমার কথা না বুঝে রাগ করে বল্লে Tan tong karn ah-rai (কি চাও?)? পুরোপুরি থাই ভাষা। বল্লাম কি জন্য কাঁদছ বোন? বল্লে : chum mai kao chai (বুঝি না)। তাদের ভাষায় আমি ভাত, পানি, তরকারী, কাপড় কি বলে জানতাম। বল্লাম- nam (পানি)। সে বল্লে ঃ A-Rai (কি)? নাম। হাসতে হাসতে পানি এনে দিলে যুবতী; বল্লাম : Khob-khun (ধন্যবাদ)’।

‘বুয়া’, ‘উন’, ‘নি’, ‘সসান’ ‘গান/য়ান’-প্রভৃতি প্রত্যয় যোগেঃ
‘পত্তাপোত্তি ৎসরনে থামা’ বুৎয্যে মরনে
ধান তোলেইবুয়া রাগেয়ে নেই ৎযগরা কুম্মো হেইয়্যে নেই।- ছেলে ভুলানো ছড়া।

‘ভালোক্কানি’ ‘ভৎযমান’, সাগরয্যা’- প্রচুর, অনেক অর্থে : ভৎযমান গঙ (প্রচুর গতি), ভালক্কানি সলঙ (অনেকগুলো খোলস),
সাগর সাগর-গঙ সাৎযুরি, মানেইয়োর মোন-মুরো ফারি, আহা বিত্যগ, আমি কধকভিলোন হ্য় ইন্দি নয় উন্দি স্যেন সিন্দি
যাদে যাদে পিত্তিমী ফুরে যায় ।’- ৎসদক চাকমা ।
‘মুদুং’, ‘ভগদাং’/‘ভাগুলোং’ মুঠি অর্থেঃ একমুদুং পাগোর (একমুঠি পাঁপড়ি), এক ভাগুলোং/ভগদাং সুগুরীলোদী (মিষ্টি কুমড়োর লতা) ইত্যাদি ।

প্রশ্নবোধক শব্দ (Interrogative word) :
সাধারণতঃ ‘কমলে’, ‘কিত্যে’, অলেস্যা’, ‘দ’, ‘হিয়া’, ‘হুদু’, ‘হুত্তুরোত’ প্রভৃতি শব্দ ক্রিয়ার আগে বা পরে বসলে বা সরাসরি এসব শব্দ দ্বারা প্রশ্ন করা হলে চাকমা ভাষায় বাক্যে প্রশ্নবোধক এসে যায় :
‘যা বাদল যা নিৎেযচ-নেইয়্যে উরি যা
সাঙুপাদি তেঙতেঙরী যা বাদল যা
সোগজারে দাগিবে যুদি এধকদিন হুদু এলে?
ধাপ-ত্যরিপ ত্যিংকানি তৎযিম পুরো পেবে, হিইবা দেলে?’
– ঋষি জনেশ আয়ন চাকমা

‘এধক ভিলোন বেলান স্যা ন উধের?
এধক বিৎযুত ফুলুন দ ন ফুদের?
আহা বিৎযগ, আমি কধকদিন হ্’য় ইয়ান নয় উবান স্যানে সিয়ান,
হাৎযায় হাৎযায় বঙযুমত্তি হাৎিয যায়
সিধু বেলান উধে, ফুলুন ফুদে, পেঘে গীদ গান৷’—ৎসদক চাকমা।

‘নে’, ‘নি’, ‘আয়’, ‘হয়নি’, প্রভৃতি শব্দ যোগেও চাকমা ভাষায় প্রশ্নবোধক শব্দ হয়:
‘বেলাত বাত্যেই তাত্তানি, হেই-দেই ললাক ভাদ-পানি।
কাবি কুৎস্যাল পেরাদন উধানে উধানে গাভুরলক বেরাদন৷
হেদে ফুরেল কাদাবন, ধনপুদিরে দাগেরলোই রাধামন৷
গাভুৎয্যা মাদল বেবেনে?
ও-বিধু, সমারয্যা লঘে কেল্ল্যে এবেনে?’
[‘রাধামন-ধনপুদি’ ব্যালডের ‘ঘিলাপারা পর্ব থেকে]

(বেহালায় তারগুলো ঠিক করে, ভাত-পানি খেয়ে-দেয়ে নিয়েছে। রসের আঁখ মাড়াচ্ছে, উঠানে উঠানে যুবকরা বেড়াচ্ছে। হাতী কাটাবন ভাঙালো, ধনপুদিকে ডাকছে রাধামনা৷ হে যুবক, মাদল (চাকমা বাদ্যযন্ত্র) বাজবে? ও-প্রেয়সীনসঙ্গীদের সাথে কাল আসবে?)
ধুধুগ ধাগত মোন বেঙ ধরতে আয়? (ঝর্ণার ধারে পাহাড়ী ব্যাঙ ধরছ কি?)
ফুলৎযামুরো সাব হেরা হেবে নে না? (ফুলযামুরো সাপের মাংস খাবে নাকি?)।

চাকমা ব্যাকরণ

লেখক: সুহৃদ চাকমা
সূত্র: সুহৃদ চাকমার স্মারকগ্রন্থ (২০০৫)

আরও পড়ুন- “চাকমা ভাষা”

Spread the love
RannyePhul

Explore Chakma Literature, Culture & History

https://rannyephul.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *