বিমল চন্দ্র দেওয়ান : আলোকিত মানুষ গড়ার এক ক্লান্তিহীন কারিগর

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে পশ্চাৎপদ পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সমস্ত ব্যক্তিগণ শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ বিকাশের ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রেখেছিলেন শ্রী বিমল চন্দ্র দেওয়ান তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, ঋষিপ্রতিম পুরুষ ও অবিসংবাদিত গুণীজন। ১৯২৫ থেকে ১৯৭৪ খ্রি. পর্যন্ত দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা জীবনে তাঁর সফলতার ব্যাপ্তি ও অবদান এত বেশি যে, তা সংক্ষিপ্ত পরিসরে লিখে শেষ করা যাবেনা।

একটা সুউচ্চ ভবন নির্মাণের জন্য সর্বাগ্রে যেমন মজবুত ফাউন্ডেশনের প্রয়োজন হয় অনুরূপভাবে একজন মানুষের জীবনে সফলতার ভিতও রচিত হয় তার শৈশবে। বিমল চন্দ্র দেওয়ান তাঁর অগণিত ছাত্র-ছাত্রীর জীবন আলোকিত করার জন্য নিরলসভাবে ভিত রচনার সেই কঠিনতম কাজটিই করে গেছেন। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের সফলতার শীর্ষে উন্নীত হওয়ার পিছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সেই বৃহৎ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পাকিস্তান আমলে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তিনি একাধিকবার রাষ্ট্রপতির পদক এবং সনদ-ই-খিদমত উপাধিতে ভূষিত হয়ে বিরল সম্মান অর্জন করেছিলেন।

প্রথিতযশা শিক্ষক ও ঋষিপ্রতিম পুরুষ শ্রী বিমল চন্দ্র দেওয়ান (১৯০৫ – ২০০১) ও তাঁর সহধর্মিণী শ্রীমতি নূতন পুদি দেওয়ান।

তাঁর মূল্যবান শিক্ষা, চেতনা ও মহান আদর্শকে ধারণ করে যে সমস্ত শিক্ষার্থীগণ সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহন করে সমাজ ও জাতির জন্য বড় ধরণের অবদান রেখে গেছেন তাঁদের কয়েকজনের নাম নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

১. স্নেহ কুমার চাকমা
পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশী আন্দোলনে পাহাড়িদের নেতৃত্ব দেওয়া এক অবিসংবাদিত নেতা।
২. বিপত্তারণ খীসা
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা(অবঃ)।
৩. সুধাংশু শেখর চাকমা
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক।
৪. মুকুর কান্তি খীসা
ভারতীয় উপমহাদেশে আদিবাসীদের মধ্যে প্রথম রাষ্ট্রদূত।
৫. ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান
জন সংহতি সমিতির আন্তর্জাতিক মুখপাত্র, পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনে যার অপরিসীম অবদান রয়েছে।
৬. অনন্ত বিহারী খীসা
পাহাড়ে শিক্ষা ও চিন্তার বাতিঘর হিসেবে খ্যাত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিক ও সমাজসেবক।
৭. প্রফেসর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর।
৮. রমনী মোহন চাকমা
ডাইরেক্টর(অবঃ), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
৯. বিপিন কিশোর চাকমা
পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সর্বপ্রথম ডিজিএম, সোনালী ব্যাংক।
১০. নভঃ জ্যোতি খীসা
প্রথিতযশা শিক্ষক, খাগড়াছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়।
১১. অমিতাভ খীসা
রিজিওনাল ম্যানেজার(অবঃ), ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স।
১২. সমীরণ দেওয়ান
প্রথম চেয়ারম্যান, পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি ও চেয়ারম্যান(প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা), ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী ও অভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স।
১৩. ইঞ্জিনীয়ার পুলক জীবন খীসা
B.Tech(Mining), IIT, India
M.Sc (Petroleum Engg.), Imperial College, London University, UK
১৪. সুভাষিনী দেওয়ান
বিশিষ্ট রত্নগর্ভা(জন সংহতি সমিতির প্রধান সংগঠক এম এন লারমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমার গর্বিত মাতা)।
১৫. ইন্দুমতী খীসা
বিশিষ্ট রত্নগর্ভা(বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবি অনন্ত বিহারী খীসার গর্বিত মাতা)।
১৬. নির্মলা খীসা(নিতম্বীনি)
বিশিষ্ট রত্নগর্ভা(পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মি. অমলেশ চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীদের মধ্যে প্রথম এম এ পাশ মিজ আরতী চাকমা,অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডাইরেক্টর, সমাজ সেবা অধিদপ্তর এর গর্বিত মাতা)।
১৭. দিপালী দেওয়ান, স্বামী- নিবারণ চন্দ্র চাকমা, কমলছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর।
বিশিষ্ট রত্নগর্ভা, যার আট সন্তানের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, কলেজের প্রফেসরসহ সবাই ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট।

উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত আলোকিত গুণীজনরা সবাই খবংপড়িয়ার কৃতিসন্তান। বিমল চন্দ্র দেওয়ানের ছাত্র-ছাত্রীদের সফলতার ব্যাপ্তি এত বেশি যে, সবার নাম লিখতে গেলে কলেবর অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই এখানে শুধু প্রয়াত ও প্রবীণ প্রজন্মের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলো।

সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি:

শ্রী বিমল চন্দ্র দেওয়ান ১৯০৫ সালের ২৫শে এপ্রিল বর্তমান রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ার চর উপজেলাধীন বুড়িঘাট মৌজার অন্তর্গত ছোট মহাপুরম মুখ পাড়ায় লারমা গোজা পিড়াভাঙা গোষ্ঠী (চাকমাদের গোত্র)র এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম উগ্রমনি ও মাতার নাম জুরপুদি। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম সন্তান। আমার প্রপিতামহ বিরাজমনি ও তাঁর পিতা উগ্রমনি ছিলেন সহোদর ভাই। তাঁর বয়স যখন ছয় বছর, জীবন ও জীবিকার তাগিদে তাঁদের পরিবার তখন মহাপুরম থেকে খাগড়াছড়িতে স্থানান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে বর্তমান সদর উপজেলাধীন খবংপড়িয়া (খবংপু্য্যা) গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

শিক্ষাজীবন:

শৈশবে পড়াশুনার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিলো। অনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে তিনি খবংপড়িয়া নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়(বর্তমানে খবংপড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)এ ভর্তি হন। কিন্তু সাত বছর বয়সে পিতৃহারা হলে তাঁর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। মহাপুরম থেকে খাগড়াছড়িতে স্থানান্তরিত হওয়ার খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বাবার মৃত্যুর কারণে  তাঁদের আট ভাই-বোনের সংসারে চরম দুর্গতি নেমে আসে। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তিনি চাষাবাদ, গরু চড়ানোসহ বিভিন্নকাজে মাকে সহযোগিতা দিতে নিয়োজিত হন। ইতোমধ্যে ছোটভাই পুলিন চন্দ্র দেওয়ান(পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আদিবাসীদের মধ্যে প্রথম ইঞ্জিনিয়ার)এর কঠিন অসুখ শুরু হলে পরিবারটি আরো বেশি সংকটের মধ্যে পড়ে। চিকিৎসার জন্য পুলিনকে নিয়ে মা ভুয়াছড়ির জনৈক বৈদ্যের কাছে চলে যান। এদিকে কাকা ও মামাদের নির্দেশে বিমল চন্দ্র দেওয়ান যাত্রা দলে নর্তকী হিসেবে যোগ দিতে বাধ্য হন। বিদীর্ণ হৃদয়ে নিরবে নিভৃতে চোখের জল ফেলে তিনি তিন বছর যাবত যন্ত্রণাদগ্ধ নর্তকী জীবন অতিবাহিত করেন। এভাবে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন প্রবাহিত হতে থাকে। পড়াশুনার প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য মাকে বার বার চাপ দিতে থাকেন। ছেলের পিড়াপিড়িতে মা অবশেষে ১৯২১সালে পুনরায় গ্রামের স্কুলে অর্থাৎ খবংপড়িয়া লোওয়ার প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখান থেকে তিনি কৃতিত্বসহকারে ২য় শ্রেণি পাশ করেন এবং ১ম গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেন। তৎকালীন সময়ে লোওয়ার প্রাইমারী স্কুলসমূহে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হতো। লোওয়ার প্রাইমারী পাশ করার পর তিনি তাঁর ভগ্নিপতির আশ্রয়ে মহাপুরম আপার প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হন। তখনকার দিনে মহাপুরম(মাওরুম) ছিলো শিক্ষা দীক্ষা ও সভ্যতায় অগ্রগামী এক আলোকিত জনপদ। উপরোক্ত স্কুলে অধ্যয়নকালে সহপাঠী হিসেবে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আরো এক গুণীজন, জন সংহতি সমিতির প্রধান সংগঠক এম এন লারমার পিতা প্রথিতযশা শিক্ষক চিত্ত কিশোর চাকমার সান্নিধ্য লাভ করেন। মহাপুরম আপার প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁরা উভয়ে রাঙ্গামাটি সরকারি হাইয়ার ইংলিশ স্কুলে আপার প্রাইমারী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে সম্মিলিত মেধা তালিকায় বিমল চন্দ্র দেওয়ান ১ম স্থান অধিকার করে মাসিক তিন টাকা হারে দুই বছর বৃত্তি লাভের আদেশপ্রাপ্ত হন। বৃত্তির টাকা গ্রহণের জন্য তখন সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে হতো। তৎকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একমাত্র রাঙ্গামাটিতে সরকারি মিডল/হাইয়ার ইংলিশ স্কুল ছিলো। রাঙ্গামাটিতে কারো বাসায় বা হোস্টেলে থেকে লেখাপড়ার কোন উপায় করতে না পারায় পরিশেষে পিতৃহারা হতভাগা মেধাবী ছেলেটির বৃত্তি লাভের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগটি চিরদিনের জন্য হাতছাড়া হয়ে যায়। ১৯২৩ সালে মহাপুরম বেসরকারি মিডল ইংলিশ স্কুলটি স্থাপিত হলে সেই বছরই তিনি উক্ত স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯২৪ সালে এমই পাশ করলে পারিবারিক আর্থিক দৈন্য দশার কারণে সেখানেই তাঁর উচ্চ শিক্ষার গতিপথ সমাপ্ত হয়।

কর্মজীবন ও অবদান:

ব্রিটিশ শাসনামলে পশ্চাৎপদ পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার আলো বিস্তার সাধনের ক্ষেত্রে অগ্রণী পথিকৃৎ, অসংখ্য স্কুল প্রতিষ্ঠার পিছনে যার অবদান চিরস্মরণীয় সেই মহাপুরুষ স্কুল ইন্সপেক্টর কৃষ্ণ কিশোর চাকমার আনুকুল্যে শ্রী বিমল চন্দ্র দেওয়ান ০৩-০১-১৯২৫খ্রি. তারিখে প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। চাকুরি জীবনের শুরুতে কিছুদিনের জন্য তিনি পানছড়ি লোওয়ার প্রাইমারী স্কুলে কর্মরত ছিলেন। পরে খবংপড়িয়া প্রাইমারী স্কুলে বদলী হয়ে স্থায়ীভাবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তিনি ১৯২৮ সালে জিটি(গুরু ট্রেনিং) সম্পন্ন করেন।  অত্যন্ত মেধাবী, জ্ঞানী ও বিচক্ষণ এ শিক্ষকটি সুচনালগ্ন থেকে নিরলসভাবে নিবেদিত হয়ে পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি অত্যন্ত সৎ, আদর্শবান, দয়ালু, ন্যায়পরায়ন ও পরিশ্রমী ছিলেন। আলোকিত মানুষ ও সমাজ গড়ার স্বার্থে শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি জীবনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। অগণিত ছাত্র-ছাত্রীকে জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দিয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে আদর্শ চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে পারে সেদিকেও তাঁর তীক্ষ্ণ নজর ছিলো। সেজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি মূল্যবোধ ও নীতিজ্ঞান সম্পর্কেও শিক্ষা দিতেন। ছাত্র-ছাত্রীদের নিজের বাড়িতে এনে নিজের অন্ন খাওয়াইয়ে বিনা পারিশ্রমিকে লেখাপড়া শিখাতেন। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা জীবনে এমন কোন বছর ছিলোনা যে বছর তাঁর স্কুল থেকে কেউ বৃত্তি লাভ করেনি। পাকিস্তান আমলে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে ১৯৬২ ও ১৯৬৭ সালে বিরল সম্মান রাষ্ট্রপতির পদক ও সনদ-ই-খিদমত উপাধি অর্জন করেন। দীর্ঘ অনেক বছর কৃতিত্বসহকারে সফলতার সাথে শিক্ষকতা করার পর ১৯৭৫ সালের ১লা জানুয়ারী চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর গ্রহণের পর তিনি ‘প্রাণাঞ্জলী’ ও ‘মন ফুলবাগান’ নামে দুটি কাব্য গ্রন্থ লিখেছেন। স্বল্প কলেবরে রচিত গ্রন্থগুলির পত্রে পত্রে ছত্রে ছত্রে রয়েছে জীবন চলার পথের দিক নির্দেশনা। প্রাঞ্জল ভাষায় ছন্দ মিলিয়ে লেখা নীতি বিষয়ক গ্রন্থগুলি প্রতিটি পরিবারে পথের দিশারি হিসেবে জীবনের আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাবে।

পারিবারিক জীবন:

১৯২৭ সালে অত্যন্ত ধর্মপরায়ন ও সংসার ধর্মে দ্বায়িত্বশীল জনৈক নূতনপুদি নাম্নী নারীর সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঔরসে দুই কণ্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। উভয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নীতি আদর্শের কারণে তাদের সংসার জীবন খুবই সুখের হয়। ২০০১ সালের ১৯ শে ফেব্রুয়ারি ৯৫ বছর বয়সে খবংপড়িয়ার নিজ বসত বাড়িতে শিক্ষাজগতের এ উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনাবসান হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খবংপড়িয়া নিবাসী বরেণ্য শিক্ষক শ্রী বিমল চন্দ্র দেওয়ান আমাদের নমস্য, আমাদের গৌরব ও আমাদের অহংকার। খবংপড়িয়ার আলোকিত সন্তানদের সাফল্যের পিছনে তাঁর অপরিসীম অবদান রয়েছে। অনেক বছর আগে মারা গেলেও তিনি এখনো বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায় থাকবেন চিরকাল। তাঁর শিক্ষা, চেতনা ও আদর্শ ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

লেখক: ধীমান খীসা

Spread the love
RannyePhul

Explore Chakma Literature, Culture & History

https://rannyephul.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *